পরিকল্পনার ভুলেই হারছে টাইগাররা?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৪

পরিকল্পনার ভুলেই হারছে টাইগাররা?

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
পরিকল্পনার ভুলেই হারছে টাইগাররা?

ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ৩ ম্যাচ জিতে বছরটা দারুণভাবেই শুরু করেছিল টাইগাররা। কিন্তু ফাইনালসহ পরবর্তী দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাজেভাবে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর লঙ্কানদের বিপক্ষে চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে ড্র ও ঢাকায় শোচনীয় পরাজয় ঘটে স্বাগতিকদের। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের এমন ফলাফলে বিস্মিত সবাই। নিজেদের দেশে, নিজেদের কন্ডিশনে এমন হার মেনে নিতে পারছে না কেউ। অথচ এ বাংলাদেশই গেল বছর মার্চে নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতেই। ফলে টাইগারদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা নিয়ে।

টেস্ট হারের পর প্রথম প্রশ্নটাই উঠেছে পিচ নিয়ে। কেন উপমহাদেশের একটি দলের বিপক্ষে স্পিনিং উইকেট বানানো হল? অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পিনিং উইকেট বানিয়ে সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এবারও স্পিন-বান্ধব উইকেট বানানো হয়েছে। আর এই উইকেট দেখে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ লঙ্কান ব্যাটসম্যান রোশেন সিলভা। যেখানে প্রতিপক্ষ দলে রঙ্গনা হেরাথ, দিলরুয়ান পেরেরা ও আকিলা ধনঞ্জয়ার মতো স্পিনার আছে সেখানে স্পিন সহায়ক উইকেট দেখে অবাকই হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান।

চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৫’শত রান ছাড়িয়ে গেলেও, শ্রীলঙ্কা ৭’শর ওপরে রান করেছে। মরা উইকেটে কোন ফলাফল আসবে না দেখে পঞ্চম দিন খেলা শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের একটু আগেই উভয় দল ড্র মেনে নেয়। এই টেস্টটি টাইমলেস টেস্টের দিনগুলির কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল। যখন ফলাফলের জন্য ১০ থেকে ১১ দিন পর্যন্ত টানা টেস্ট খেলা চলত। কিন্তু বর্তমানে ৫ দিনে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় চট্টগ্রাম টেস্ট!

মূলত চট্টগ্রামে ব্যাটম্যানদের সাফল্যের কারণে মিরপুরে স্পিনিং উইকেট বানায় বাংলাদেশ। আর তাতেই যত সর্বনাশ। লঙ্কান স্পিনারদের ঘূর্ণিতেই উল্টো কুপোকাত টাইগাররা। স্রেফ এলোমেলো খেলে মিরপুরে নিজেদের উইকেট খুঁইয়ে এসছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের বিপর্যয়ের বড় কারণ হতে পারে। সাকিবই ছিলেন এই সিরিজে বাংলাদেশ স্কোয়াডের একমাত্র বাঁহাতি স্পিনার। তার অনুপস্থিতিতে প্রথম টেস্টে ১৬ জনের স্কোয়াডে ৬ জন স্পিনার নিয়েছিল বাংলাদেশ। ডাক পেয়েছিলেন বাঁহাতি অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকও। অথচ প্রথম টেস্টে তাকে বাদ দিয়ে নামানো হল আরেক বাঁহাতি সানজামুল ইসলামকে। ঢাকা টেস্টে এসে আবার সানজামুল বাদ। মাঠে নামলেন রাজ্জাক। অন্যদিকে চট্টগ্রাম টেস্টে খেলা মোসাদ্দেক হোসেনকে বাদ দিয়ে মিরপুরে নামানো হল সাব্বির রহমানকে। দুই ইনিংসে তার স্কোর যথাক্রমে ০ ও ১। অন্যদিকে মোসাদ্দেক চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ বলে অপরাজিত ছিলেন ৮ রানে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি ক্রিজে টিকে ছিলেন ৭০ মিনিট।

সবশেষে, চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর বাংলাদেশ দলের অবস্থা মাঝিবিহীন নৌকার মতো। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হয়ে হেড কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে, তা খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে, বলা যাবে না।

২০১৯ সালে বিশ্বকাপের বাকি আর ১৮ মাস। এ বিশ্ব আসরে যদি ভালো কিছু করতে হয় তবে, এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দিয়ে এগুতে হবে বাংলাদেশকে। কারণ প্রতিভা ও সামর্থ্যের অভাব নেই টাইগারদের। প্রয়োজন সঠিক ও ধারাবাহিক পরিকল্পনা ধরে এগিয়ে যাওয়া।

তার আগে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টি রোববার। বছরের শুরুতে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত শুরু করেও ত্রিদেশীয় সিরিজে হেরেছে, জিততে পারেনি টেস্ট সিরিজও। এবার টি-টুয়েন্টিতে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ?

সূত্র: ক্রিকইনফো.

পিএ/এসএম

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad