জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:৩২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭

print
জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা

দেশে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অধিকতর অর্থায়নের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা (সিআইপি)’ শীর্ষক একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এটি পরিবেশ খাতে বিশ্বের এ ধরনের প্রথম আন্ত:সংস্থা ও আন্ত:সেক্টরাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা।

বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে এ পরিকল্পনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।

ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কারিগরী সহায়তায় পাঁচ বছর মেয়াদী (২০১৬-২০২১) এটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিবেশ কমিটির গত ০৬ আগস্ট ২০১৭ তারিখের সভায় পরিকল্পনাটি অনুমোদন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে তাদের স্ব স্ব উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিআইপির বিনিয়োগ কাঠামো অনুসরণের জন্য উক্ত সভায় অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পরিবেশ খাতে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রায় দুই বছর সময় নিয়ে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে অধিকতর সমন্বয় সাধন করা যাবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগের ফলাফল নির্ণয় করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৬-১৭ সালের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১৭০টি প্রকল্প আছে, যারা কোনো না কোনোভাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে অবদান রাখে। এ সকল প্রকল্প হতে যদিও প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করা হয়েছে, কিন্তু সিআইপির হিসাবমতে সরকারের চলমান পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ অন্যান্য জাতীয় পরিকল্পনায় যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করা হয়েছে, তা অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে আরো প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে।

বিশেষ করে পরিবেশগত সুশাসন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো খাতগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় বিনিয়োগ খুবই অপ্রতুল। গত এক দশকে দেশের জিডিপি ৬ শতাংশেরও অধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির উক্ত গতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশের সুরক্ষা প্রদানের নিমিত্তে এসমস্ত খাতে অধিকতর বিনিয়োগ দরকার।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ইউএসএইডের মিশন ডিরেক্টর জেনিনা জেরুজালস্কি; এফএও বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ডেভিড ডুলান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘সরকার এমন সব নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে সকলের জন্য প্রকৃত প্রস্তাবেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। আমরা আশা করি যে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে সঠিক ও অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্প নির্বাচনে এই কৌশলগত বিনিয়োগ পরিকল্পনা সহায়ক হবে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নীতিগত উদ্দেশ্য সফলভাবে অর্জন করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/সংস্থার সমন্বিত অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে পরিবেশ ব্যবস্থাপনায়ও নজর দেয়ায় বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে দেশের যে সামগ্রিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন পরিকল্পনা হিসাবে এই সিআইপি চমৎকার ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে দেশের মানুষের জন্য একটি উন্নততর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত হবে।’

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে তা মানুষ্য সৃষ্টি। কিন্তু যারা এটা করছেন তারা পরিবর্তনের প্রভাবে ভোগেন না। ভোগে আমাদের মতো দেশগুলো। অথচ আমরা কোনো কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন করি না।’

তিনি বলেন, ‘ভারত, চীন আমেরিকাসহ পৃথিবীর ৫টি দেশ প্রায় ৫৫ শতাংশ কার্বনডাই অক্সাইড নির্গমন করে। এই দেশগুলোই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশ চুলা, ব্রিকফিল্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্বনডাই অক্সাইডের মাত্রা কমাতে কাজ করছে। যত টাকা লাগে সরকার খরচ করবে। তারপরও কার্বনডাই অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

এফএ/এএসটি

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad