নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এফআরএ বাস্তবায়ন করা হবে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এফআরএ বাস্তবায়ন করা হবে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৭

print
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এফআরএ বাস্তবায়ন করা হবে

 

আর্থিক খাতের সাথে সম্পৃক্ত সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয় করে ফাইনালন্সিয়াল রিপোর্টি অ্যাক্ট (এআরএ) বস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন ফাইনালন্সিয়াল রিপোটিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সি. কিউ. কে. মোস্তাক আহমেদ।

.

 

সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) কর্তৃক আয়োজিত ‘ফাইনালন্সিয়াল রিপোটিং অ্যাক্ট ২০১৫ অ্যান্ড ইটস ইকোনমিক ইমপ্লেকশন’’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ আর্থিক খাতের সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সুপারিশমালাকে বিবেচনায় নিয়ে অচিরেই ফাইনালন্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট বাস্তবায়ন করা হবে। এটা বাস্তবায়ন হলে দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্চতা ফিরে আসবে। বাড়বে জবাবদিহিতা। ফলে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।

মোস্তাক আহমেদ বলেন, আইন-কানুনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে। এদেশে প্রায় প্রত্যেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তা মানছি না।

যা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে নতুন আইন তৈরি করে লাভ কি? তাই আমাদের সকলের উচিত আইন-কানুন পরিপালনের মানষিকতা সৃষ্টি করা।

সেমিনারে ফাইনালন্সিয়াল রিপোটিং অ্যাক্ট নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহদাত হোসেন, এফসিএ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান।

মূল প্রবন্ধে শাহদাত হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংকের ২০০৩ সালের ‘রিপোর্টি অন অবজারবেন্স অব স্টান্ডার্ড অ্যান্ড কোডস অন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং’ সর্বপ্রথম ফাইন্যালন্সিয়াল রিপোটিং কাউন্সিলের ধারণাটি আলোচনায় আসে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে ফাইনালন্সিয়াল রিপোটিং আইন প্রাশ করা হয়।

এ আইনে ফাইনান্সিয়াল রিপোটিং ও অডিটিং স্ট্যান্ডার্ডস অনুসরণের বাধ্যবাধকতা প্রদান করা হয়েছে। যদি কোন ব্যক্তি এই আইন পরিপালনে ব্যর্থ হয় তবে তার জন্য অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে।

মূল প্রবন্ধে তিনি আরো বলেন, অস্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদনের কারণে যদি কোন শেয়ারহোল্ডার ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তবে তিনি ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারবেন। প্রতিবেদন অস্বচ্ছ বা মিথ্যা তথ্যে প্রমাণ পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে অডিটররাও কর্তব্য অবহেলার দায়ে দায়ী হবেন ও শাস্তির আওতায় আসবেন।

আর আগে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইসিএমএবির সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এফআরসিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। কারণ এ কাউন্সিলের কাজের ওপর ফাইনালন্সিয়াল খাতের আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা নির্ভর করছে।

সেমিনারে আইসিএবির সভাপতি আদিব হোসেন খান বলেন, আমাদের দেশের অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড পরিপালন করাটা একটু কঠিন। কারণ আর্ন্তজাতিক স্ট্যান্ডার্ড পরিপালন হয় এখানে। তবে রেগুলেটরদের ক্ষেত্রে আইন পরিপালনে ফাঁক থাকলে এফআরসি পদক্ষেপ নেবে। সেখানে সঠিক সিদ্ধান্তটাই নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অডিটররা কম মূল্যে অডিট করেন।আর সেটা আস্থাহীনতার একটা কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এখানে মেধাবীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেটা সম্ভব না হলে ভোগান্তির শিকার আমরাই হব।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই এর সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ে প্রবৃদ্ধি, স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগে এফআরসি নতুন যুগের সৃষ্টি করবে। তাদের এখাতের শৃংঙ্খলা, বিনিয়োগকারীর আত্মবিশ্বাস ও মূল্য বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনায় এ.কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনের অস্বচ্ছতা নিয়েই কোম্পানি না থাকলেও এক সময় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল মিলন ট্রেনারি। লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট বহুজাতিক কোম্পানি হলেও তালিকাভুক্তির পর জেড ক্যাটাগরিতে চলে গিয়েছিল। এছাড়াও ইউনাইটেড এয়ারের মত কোম্পানি যাদের কোন এয়ার ক্রাফট নাই, তারা রাইট ও আইপিও’র মাধ্যমে বারংবার পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলছে।

জেডএস/এএস

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad