দু’বছরের বোনকে বাঁচাতে রোহিঙ্গা শিশুর দুঃসাহসিক যাত্রা

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

দু’বছরের বোনকে বাঁচাতে রোহিঙ্গা শিশুর দুঃসাহসিক যাত্রা

ইমরুল কায়েস, কক্সবাজার ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

print
দু’বছরের বোনকে বাঁচাতে রোহিঙ্গা শিশুর দুঃসাহসিক যাত্রা

মোহাম্মদ সোলাইমান। বয়স নয় বছর। মিয়ানমার বাহিনীর উন্মত্ততায় চোখের সামনে খুন হন মা-বাবা। দাউ দাউ করে জ্বলছে বসতবাড়ি। কিন্তু কী হবে দু’বছরের বোন নাছিমার! সোলাইমান বোনকে কাঁধে তুলে নেয়। শুরু করে দুর্গম পথে বেঁচে থাকার এক দুঃসাহসিক যাত্রা। সোলাইমানের বাড়ি মিয়ানমারের দাচিদং এলাকায়। বৃহস্পতিবার মিয়ানমার বাহিনী তাদের পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। তার সামনেই ঘরের আঙ্গিনায় হত্যা করা হয় তার বাবা মুসা আর মা নুর নাহারকে।

.

মিয়ানমার বাহিনীর গণহত্যা থেকে বাঁচতে ছোটবোন নাছিমাকে কাঁধে নিয়ে তিন দিন পাহাড় ও নদী পার হয়ে অন্য গ্রামবাসীর সঙ্গে সোমবার সকালে বাংলাদেশে পৌঁছায় সোলাইমান। ভাই-বোনের কাদায় মাখামাখি শরীর বলে দেয় কতটা দুঃসহ ছিল এই যাত্রা।

বিকাল নাগাদ টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টে একটি চিংড়ি ঘেরের পাশ ধরে ছোট বোনকে কাঁধে নিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পা রাখে সোলাইমান।

সোলাইমান জানায়, মিয়ানমারে সেনারা তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় বাবা-মাকে গুলি করে হত্যা করে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই সময় সে তার দুই বছর বয়সী বোন নাছিমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

সে জানায়, জীবন বাঁচাতে গ্রামবাসীর সঙ্গে ছোটবোন নাছিমাকে কাঁধে নিয়ে তিন দিন পায়ে হেঁটে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে। এই সময় তাদেরকে বিশাল পাহাড় ও ছোট-বড় পাঁচটি নদী পাড়ি দিতে হয়।

সোলাইমান আরো জানায়, তার শরীরে মিয়ানমার বাহিনীর করা গুলির তিনটি ক্ষত রয়েছে। তিন দিনে শুধু বিস্কিট ছাড়া আর কিছুই খেতে পারেনি। বোনের দিকে তাকিয়ে গুলির যন্ত্রণা নিয়েই বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানায় সে।

দু’বছর বয়সী ছোট্ট নাছিমা কোনো কিছু বলতে না পারলেও তার চোখে-মুখে শুধু বাবা-মাকে খুঁজে বেড়ানোর চাহনি। মিয়ানমার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের শিকার মা-বাবা যে আর ফিরবেন না সে কথা বুঝার বয়স এখনো তার হয়নি।

এদিকে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। সম্প্রতি ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যেও শিশুদের মৃতদেহ ছিল বেশি। মিয়ানমার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পাচ্ছে না দুধের শিশুরাও। যদিও এই যাত্রায় ভাইয়ের কাঁধে চড়ে বেঁচে গেছে নাছিমাদের একজন।

আইকে/এমএসআই

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad