স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে পর্যটন শহর রাঙামাটি

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭ | ৭ কার্তিক ১৪২৪

স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে পর্যটন শহর রাঙামাটি

রাঙামাটি প্রতিনিধি ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৭

print
স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে পর্যটন শহর রাঙামাটি

রাঙামাটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের পর স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এখানকার ব্যবসাসহ জীবনযাত্রা। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এখনো। পর্যটন খাত থেকে শুরু করে মৌসুমী ফল চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত। দুর্দশায় দিন কাটছে পরিবহণ শ্রমিকদের।

পাহাড় ধসের কারণে জেলার সাথে গত ১৪ জুন অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সকল ধরনের যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। ভয়াবহ পাহাড় ধসে তলিয়ে যাওয়া ঘাগড়া শালবন এলাকার ১৫০ রাস্তা সেনাবাহিনী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অক্লান্ত পরিশ্রমে গত ২১ জুন হালকা যানবাহন চলার জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরিমধ্যে গতকাল রোববার বিকালে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কটিও যাতায়াতের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

বিপর্যয়কালীন সময়ে বাজারের কৃত্রিম সংকটও প্রশাসনের ভূমিকায় দুই-তিন দিন পর স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিকল্প রুটে লঞ্চের মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে লঞ্চ মালিক সমিতি ও স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে গতকাল সকাল থেকেই রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামগামী লোকাল বাসগুলো চলাচল করছে। সব মিলিয়ে এখন রাঙামাটি স্বাভাবিক দিকে রূপ নিয়েছে। এখনও জেলার মোট ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজারের মতো মানুষ আশ্রিত আছে। আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর এখন পুনর্বাসন করতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান জানান, গতকাল বিকেল থেকেই রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। জেলার সাথে অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়াতে জনজীবন আরও স্বাভাবিক হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষদের কথা জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করাটাই এখন আমাদের প্রধান কাজ। ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়দের পুনর্বাসনের চিন্তা সরকার করছে। এ সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করার লক্ষে তিনটি বিশেষ কমিটি করা হবে। ইতোমধ্যে পুনর্বাসন করার জন্য আমরা জায়গা খুঁজছি।’

নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করা হবে জানিয়ে তিনি পরিবর্তনকে বলেন, ‘আমরাতো এদের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পুনর্বাসন করতে পারি না। আমরা আশ্রিতদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে পুনর্বাসন করবে।’

উল্লেখ্য, ভারি বৃষ্টি ও প্রবল বর্ষণের ফলে গত ১২ ও ১৩ জুন পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে দুই সেনাকর্মকর্তা ও তিন সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ২শ এর অধিক মানুষ। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় চরম বিপাকে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশুদ্ধ পানি ও জ্বালানি তেলসহ সকল নিত্য পণ্য কৃত্রিম সংকটে ভুগে রাঙামাটিবাসী।

পিআর/জেআই/এএসটি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad