কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবি, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবি, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

রাঙামাটি প্রতিনিধি ৭:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবি, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে পৃথক দুটি পর্যটকবাহী নৌকা ডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার বিকালে জেলার কাপ্তাইয়ে নিখোঁজ আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম দেবলিনা দে (১০)। সে চট্টগ্রাম কোতয়ালী থানার হাজারিগলি এলাকার রতন দে'র কন্যা।

এর আগে সকালে রাঙামাটি জেলা শহরের ডিসি বাংলো এলাকা থেকে কাপ্তাই হ্রদে ওপর দিয়ে সুবলং যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।

মৃতরা হলেন, রিনা আক্তার (৩২), শিলা আক্তার (২৭), আসমা আক্তার (২২) ও আফরোজা আক্তার (১৪)। এছাড়া নিহত আরেকজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ওই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার হরিপুর মজুমদার বাড়ির রাজিব মজুমদারের স্ত্রী টুম্পা মজুমদার (৩০) ও  বিজয় মজুমদার (৫)। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডুবুরি দল অভিযান চালিয়েও তাদের সন্ধান পায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের ভাষ্য, শুক্রবার বসন্তের প্রথমদিন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের প্যাসিফিক জিন্স গার্মেন্টসের শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মিলে ৫০ জনের একটি ভ্রমণ দল রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে আসেন।

সকালে তারা দুইটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে সুবলং এর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এর মধ্যে একটিতে ৩০ জন ও আরেকটিতে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। পথে একটি নৌকা থেকে আরেকটি নৌকায় কামরাঙ্গা ছোড়াছুড়ি করলে অন্য নৌকার যাত্রীরা কামরাঙ্গা ধরতে প্রায় অনেকেই নৌকার এক কোণে চলে আসেন। এসময় নৌকাটি ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেরে হ্রদের পানিতে ডুবে যায়। পরে সাঁতার জানা ব্যক্তিরা সাঁতরে পার হলেও শিশুসহ বেশ কয়েকজন পানিতে ডুবে যান।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটিতে ডুবুরি না থাকা সত্ত্বেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হ্রদের পানি থেকে ৬টি মরদেহ উদ্ধার করে। তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশ্রায় আহমেদ রাসেল জানান, চট্টগ্রামের নন্দনকানন রাধামাধব মন্দির থেকে সড়কপথে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) ১২৭ জন সদস্য তীর্থ ভ্রমণে কাপ্তাই উপজেলার শীলছড়িতে আসেন। তীর্থ ভ্রমণে এসে দলটি কাপ্তাইয়ে বেড়াতে এসে কর্ণফুলী নদী ভ্রমণে বের হয়। তীর্থযাত্রীদের বোট ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ দুইজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ডুবুরি দল সন্ধান তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

কাপ্তাই হ্রদে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ছাদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা:

নৌ-পথে ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা এড়াতে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী সকল ধরণের ট্যুরিস্ট বোটের ছাদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার সকালে কাপ্তাই হ্রদের সংঘঠিত দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে বিকালে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

এসময় তিনি হ্রদের চলাচলকারী অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা ও লঞ্চের ফিটনেস চেকিং করতে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশকেও হ্রদের পর্যটকদের শৃঙ্খলা মানাতে কাজ করার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, রাঙামাটি পর্যটন শহর। এ জেলায় দিনদিনই পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। কাপ্তাই হ্রদ হলো এ জেলার পর্যটনের মূল আকর্ষণ। পর্যটকরা মূলত এখানে এসে হ্রদেই ঘুরে বেড়ান। কিন্তু জনসচেনতার অভাবে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনাও ঘটছে। তাই হ্রদে ফিটনেসবিহীন সকল ধরণের নৌ-যান চলাচল করতে পারবে না।

পাশাপাশি আগামীকাল (শনিবার) থেকে হ্রদে কোনো ধরণের ট্যুরিস্ট বোটে ছাদের ব্যবস্থা থাকবে না। শনিবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট জেলা শহরের চারটি বোটঘাট পরির্দশন করবেন।

শেষে তিনি রাঙামাটিতে পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহত হেলপার ও কাপ্তাই হ্রদে ডুবে নিহত ৫ জনের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।

পিআর/পিএসএস

আরও পড়ুন...
কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে ৫ জনের মৃত্যু

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও