ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা জকির বাহিনী
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬

ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা জকির বাহিনী

কক্সবাজার প্রতিনিধি ২:১৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০

ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা জকির বাহিনী

দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জকির বাহিনী। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই বাহিনী হামলা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর। এই বাহিনীর হামলায় বিভিন্ন সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ২ র‍্যাব সদস্য। জকির বাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছেন অর্ধশত রোহিঙ্গা।

মূলত মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই সশস্ত্র জকির বাহিনী। ইয়াবা পাচার ছাড়াও জকির বাহিনী এখন টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি ও মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।

এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের সি-ব্লকের হাজী আঃ আমিন ছেলে জকির (২৮)।  অত্যাধুনিক দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত এই বাহিনীতে আরো অন্তত ৩০ জন সদস্য রয়েছেন। টেকনাফের নয়াপাড়া, জাদিমুরা ও লেদা এলাকায় রোহিঙ্গা শিবিরে অত্যাধুনিক দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ত্রাস চালাচ্ছে এই বাহিনী।  

গত ৩০ ডিসেম্বর টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে পাশে জকির বাহিনীর আস্তানায় অভিযানে গেলে র‌্যাব সদস্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এসময় কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি-২ হোয়াইক্যং ক্যাম্পের সদস্য সৈনিক ইমরান ও কর্পোরাল শাহাব উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি-২ হোয়াইক্যং ক্যাম্পের ইনচার্জ (এএসপি) শাহ আলম জানিয়েছেন, গত ৩০ ডিসেম্বর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান জকিরকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় জকির ও তার বাহিনীর সদস্যরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে দুই র‌্যাব সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলা করে জকির বাহিনী। জকির ও তার বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা শিবিরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এই সময় শিশুসহ ১৩ রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়। এই ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ২০ জন।

গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে অভিযানে গেলে ফের র‍্যাবের ওপর হামলা করে জকির বাহিনী। এতে অন্তত ১২ জন র‍্যাব সদস্য আহত হন। র‍্যাবের পাল্টা গুলিতে মারা যান জকির বাহিনীর সদস্য ইলিয়াছ ডাকাত। তিনি টেকনাফের-২৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকের বাসিন্দা।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় বন্দুক, একটি ওয়ান শাটার গান ও চারটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মেহেদি হাসান জানিয়েছেন, জকির বাহিনী এখন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সশস্ত্র। তাদের হাতে একাধিক অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্র আছে। তারা মূলত ইয়াবা পাচার, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজে জড়িত। এই বাহিনীকে ধরতে র‍্যাবের অভিযান অব্যহত আছে। যেকোনো ভাবেই এই বাহিনীর প্রধান জকির সহ বাহিনীর সবাইকে ধরতে র‍্যাবে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করবে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন আবদুল হাকিম ডাকাত, জকির, কামাল ও সালমান খান। তাদের সঙ্গে রয়েছেন -  কামাল, খায়রুল আমিন, নুরারী, আমান উল্লাহ, মাহমুদুল হাসান, হামিদ, রাজ্জাক, বুলো ওরফে বুইল্লা, রফিক, মাহনুর ওরফে ছোট নুর। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা পাচার, অপহরণ, ডাকাতি, খুন ও মানব পাচার সহ নানা অপরাধ করছে।

এএসটি/

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও