ফেনীতে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষকরা

ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ফেনীতে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষকরা

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী  ২:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

ফেনীতে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষকরা

সারাদেশের মতো ফেনীতেও শুরু হয়েছে খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান। জেলায় গত ৫৩ দিনে ২২শ ৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান।

এছাড়া জেলার দাগনভূঞা, ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলায় যেসব কৃষকদের কার্ড রয়েছে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী বাজারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি মূল্যে কেনা হচ্ছে এ ধান।

ফেনী সদর উপজেলার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) মো. শাহীন মিয়া জানান, সদর উপজেলায় মোট এক হাজার ৭শ ১১ টন ধান এবং ৭৯৯ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 

তিনি বলেন, বাজারের চেয়ে পাঁচ ভাগ আদ্রতা কমে ১৪ ভাগ আদ্রতার ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছেন। এরইমধ্যে বেশ সাড়াও পাওয়া গেছে। 

এদিকে ধান বিক্রি করে সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের চানপুর এলাকার কৃষক নুরুল আমিন, মো. দেলোয়ার হোসেন, ওবাদুল হক, কালিদহ ইউনিয়নের কিশোর কান্তি দাস জানান, তারা কয়েক বছর ধরে সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এতে করে বাইরের বাজার থেকে দাম বেশি পেয়েছেন। গ্রামে পাইকাররা ধান মণপ্রতি মোটা-চিকন ভেদে চার থেকে পাঁচশ’ টাকা দামে কিনছেন। ফলে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। আর এখন সরকারের কাছ থেকে মণপ্রতি ধানে এক হাজার ৪০ টাকা পেয়েছেন।

পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ছোট ধলিয়া গ্রামের মো. করিম বলেন, এবার ৯০০ শতক জমিতে নিজে ধান লাগিয়েছেন। দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ৩০০ মণ ধান পেয়েছি। যেখান থেকে তিন টন ধান বিক্রি করেছি। এরই মধ্যে ৭৮ হাজার টাকা হাতে এসেছে, যদি সব ধান এ দামে বিক্রি করতে পারি, তবে লোকসানের কোনো শঙ্কা নেই।

একই এলাকার অপর এক কৃষক নকুল চন্দ্র পাল বলেন, সরকারিভাবে ধানের দাম ২৬ টাকা ও চালের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০ মণ ধান বিক্রি করেছি, আরো ২০ মণ করবো। যে দাম আশা করেছি, তা না পেলেও সরকারের এ পদক্ষেপের কারণে লোকসানে তো পড়তে হচ্ছে না। আর লাভও তো কিছুটা হবে। এতে আমরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পেয়ে আবারো চলতি বোরো চাষাবাদ করতে পারব। ‘কৃষক বাঁচলে দেশে বাঁচবে সরকার’ সে কথা চিন্তা করে আমাদের ধানের দাম পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় আমরা খুশি।

এদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদ উদ্দিন মাহমুদ জানান, ফেনী জেলায় ছয় হাজার ৮শ ৯৪ টন ধান এবং দুই হাজার ৪৩০ টন চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধান প্রতিকেজি ২৬ টাকা এবং চাল প্রতিকেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, চাহিদার চেয়ে ধান বিক্রেতা বেশি হওয়ায় উপজেলায় কৃষকদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। সরাসরি ধান সংগ্রহ অভিযান চলমান রয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান সরকারী মূল্যে বিক্রি করতে পারছে। এতে অর্থনেতিকভাবে লাভবান হচ্ছে শত শত কৃষক পরিবার।

পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার জানান, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। তবে বক্সমাহমুদ ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ধান বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অনিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসমিন আক্তার বলেন, সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী ধান করতে হবে। ধান ক্রয় ও বিক্রয়ে কেউ যদি কোনো অনিয়ম করে থাকে তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, এবার ফেনী সদরে ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭শ ১১টন এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ৪শ ৫২ টন, ছাগলনাইয়ায় ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা ৯শ ৯৪টন এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ৫শ ৭৫ টন, দাগনভূঞায় ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা ৮শ ৮৫টন এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ৫০ টন, সোনাগাজীতে ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৯ টন এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ৮শ ১৫ টন, পরশুরামে ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা ৬শ ২৯ টন এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ১শ ৫১ টন ও ফুলগাজী ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা ৬শ ৬৬ টন এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ১শ ৬২ টন।

এএসটি/

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও