সিআরবির জোড়া খুনের প্রধান আসামি অজিত বিশ্বাস গ্রেফতার

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

সিআরবির জোড়া খুনের প্রধান আসামি অজিত বিশ্বাস গ্রেফতার

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৭:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২০

সিআরবির জোড়া খুনের প্রধান আসামি অজিত বিশ্বাস গ্রেফতার

চট্টগ্রাম রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে সিআরবিতে জোড়া খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি অজিত বিশ্বাসকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) ভোরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ধোরলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান এই খবর নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতার অজিত বিশ্বাস চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সিআরবির ডবল মার্ডার মামলায় অজিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। এই মামলার চার্জশিটও হয়েছে। নিম্ন আদালতে নিয়মিত হাজিরার শর্তে অজিত উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। কিন্তু নিম্ন আদালতে নিয়মিত হাজিরা না দেয়ায় আদালত তার জামিন বাতিল করে। তার বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

রেলওয়ের কোটি টাকার দরপত্রের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ২০১৩ সালের ২৪ জুন যুবলীগের তৎকালিন কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এবং ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল আলম লিমনের অনুসারীরা চট্টগ্রামের সিআরবি (রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দফতর) এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান যুবলীগ কর্মী সাজু পালিত (২৮) এবং স্থানীয় বস্তির শিশু মো. আরমান (৮)।

ঘটনার পর সিএমপির কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুর রহমান বাদি হয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৮৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ওই মামলার এজাহারে আসামির তালিকায় ৭৮ নম্বরে অজিত বিশ্বাস। এই ঘটনায় নিহত সাজু পালিতের মা পরে আদালতে আরেকটি মামলা করেন। তাতে অজিত বিশ্বাস প্রধান আসামি। দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।

ওই মামলায় ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর ৬২ জনকে আসামি এবং ৩৭ জনকে সাক্ষী করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পিবিআই অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। এতে ৬৪ জনকে আসামি ও ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়। এই প্রতিবেদনে অজিত বিশ্বাসকে এক নম্বর এবং সাইফুল আলম লিমনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।

পিবিআই’র দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে অজিত বিশ্বাস পূর্বশত্রুতার কারণে সাজু পালিতকে গুলি করে। সেসময় লিমনের অনুসারীরা বাবরের অনুসারীদের দিকে এগিয়ে এলে অজিত আবার গুলি ছোড়েন। সেই গুলিতে প্রাণ হারায় শিশু আরমান।

সিআরবির জোড়া খুনের পর অজিত বিশ্বাস নগর ছেড়ে জেলার বোয়ালখালীতে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি।

জেএইচ/এএসটি

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও