ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রোহিঙ্গারা

ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রোহিঙ্গারা

কক্সবাজার প্রতিনিধি ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২০

ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রোহিঙ্গারা

ছবি: আবু সুফিয়ান

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় আগামীকাল রায় দেবে আদালত। হেগে এর আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাবার অপেক্ষায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গারা বলছেন, হেগ এর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রায়ে আগামীকাল মিয়ানমার সরকার ও মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাবে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালিয়ে তাদের যে দেশ ছাড়া করেছে, সেই নির্যাতনের সঠিক বিচারের আশায় রয়েছেন তারা।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে উখিয়ার কুতুপালং এ আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা আব্দুল মজিদ জানান, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মদদপুষ্ট সূ চি সরকার ও সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর যে বর্বরতা চালিয়েছে সেই অপরাধে আন্তর্জাতিক আদালত তাদের কঠোর শাস্তি দিবে বলে তিনি আশা করছেন।

ছবি: আবু সুফিয়ান

নুরুল আজিম নামের আরেক রোহিঙ্গা বলেন, সূ চি হেগ এর আদালতে গিয়ে মিথ্যা কথা বলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেয়েছেন। কিন্তু সূ চি আদালতে তার পক্ষে প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। কালকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে একটি ঐতিহাসিক রায় আশা করছেন তিনি।

ফরিদ নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, গাম্বিয়া সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। গাম্বিয়া সূ চি সরকারকে বিচারের মুখোমুখি করেছেন। ন্যায়বিচার পেয়ে আমরা দ্রুত নিজের ভিটেমাটিতে ফিরেযেতে চাই।

ওমর ফারুক নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, নেদারল্যান্ডের আদালতে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি আমরা। ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আমরা মসজিদে মসজিদে বিশেষ মুনাজাত করছি। আল্লাহ যেন আমাদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দেন। ন্যায়বিচার পেলে আমরা দ্রুত নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই। 

 

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটি প্রতিষ্ঠাতা  মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, আন্তজাতিক আদালতে সঠিক বিচারের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে দীর্ঘদিনের সমস্যা ও অস্থিরতা থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পাবে।  এর ফলে বাংলাদেশের তিন দশকের একটি বড় সমস্যার অবসান ঘটবে বলে আশা করেন তিনি।

গত নভেম্বরে গণহত্যার বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে নেদারল্যান্ডের হেগের আন্তজাতিক আদালতে ওআইসির পক্ষে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। এতে অভিযোগ করা হয়, সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার। এই অভিযোগের শুনানি হয় গত বছরের ১০ই ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডসের হেগে। আদালতে গাম্বিয়ার পক্ষে বলা হয় মিয়ানমার ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।

আইকে/এএসটি/

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও