যুব মহিলা লীগ নেত্রীর মামলায় পুলিশ স্বামী কারাগারে

ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৬ মাঘ ১৪২৬

যুব মহিলা লীগ নেত্রীর মামলায় পুলিশ স্বামী কারাগারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ৭:২৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

যুব মহিলা লীগ নেত্রীর মামলায় পুলিশ স্বামী কারাগারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাউদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে হাজির হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার ছাদাত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তার পান্নাকে বিয়ে করেন সালাউদ্দিন।

গত ১ ডিসেম্বর দুপুরে স্বামী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ধারায় একটি এজহার দায়ের করেন তাহমিনা।

বিচারক সমন জারি করে সালাউদ্দিনকে ১৫ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। রোববার আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, তাহমিনা আক্তার পান্না জেলা যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি। তাকে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক চট্টগ্রামের হাটহাজারী উত্তর মাদ্রাসা এলাকার সামসুল আলমের ছেলে সালাউদ্দিনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ১৫ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। বিয়ের পর তাহমিনা একটি মেয়ের জন্ম দেন। তার বয়স তিন বছর।

গত তিন-চার মাস আগে তাহমিনার কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন স্বামী সালাউদ্দিন। গত ১৫ নভেম্বর সালাউদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সামনে পুলিশের চাকরিতে পদোন্নতির কথা বলে আবার ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

সে সময় ওই মুহূর্তে যৌতুকের ২০ লাখ টাকা না দিলে অন্যত্র বিয়ে করবে বলে তাহমিনাকে ভয় দেখান সালাউদ্দিন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাহমিনার নাকে-মুখে চর, থাপ্পড়, কিল, ঘুষিসহ এলোপাতারি মারধর করেন সালাউদ্দিন। পরে স্ত্রী ও সন্তানকে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। ঘটনার পরপর বিষয়টি কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে জানিয়েও কোনো বিচার পাননি তাহমিনা। এজন্য বিচার পাওয়ার আশায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা সুলতানা খানম বলেন, যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্বামী পুলিশ পরিদর্শকের (তদন্ত) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন স্ত্রী তাহমিনা। রোববার হাজির হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাকিম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ৩০ নভেম্বর পরিদর্শক সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন প্রথম স্ত্রী সামসুন নাহার সুইটি। কুমিল্লার নারী ও শিশু আদালতে মামলাটি হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের নির্দেশনা দেন।

এসময় সুইটি জানান, একাধিক নারীর সঙ্গে সালাউদ্দিনের পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে মারধর করে ১১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছেন সালাউদ্দিন।

সে বলছেন ১১ লাখ টাকা দিলে দ্বিতীয় স্ত্রী পান্নাকে বিদায় করে দেবে। আর টাকা না দিলে সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে দেবে। এখন বাচ্চাদের ও সংসারের কোনো খরচও দেয় না সে।

প্রথম স্ত্রীর মামলার ঘটনার পর গত ২ ডিসেম্বর সালাউদ্দিনকে কোতোয়ালি থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এইচআর

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও