মসজিদের টাকা আত্মসাতের জেরে তছনছ সবজির ক্ষেত

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

মসজিদের টাকা আত্মসাতের জেরে তছনছ সবজির ক্ষেত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ১১:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

মসজিদের টাকা আত্মসাতের জেরে তছনছ সবজির ক্ষেত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩০০ শতক জমিতে রোপণ করা পেঁয়াজসহ বিভিন্ন প্রকার সবজির চারা তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের সাধারণ জনগণের দানের টাকা আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের বকশিপাড়া এলাকায় গত রোববার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামের পূর্বপাড়া জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া মাদরাসার দানের টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ায় কমিটির দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। ওই মসজিদ ও মাদরাসার পৃথক দুইটি পরিচালনা কমিটি রয়েছে।

গত তিন বছর আগে হাজী সিরাজ খাঁ কে সভাপতি ও নুরুজ্জামান মাস্টারকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্যের মসজিদ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামানের কাছে মসজিদের দানের টাকা গচ্ছিত ছিল। দান মারফত মসজিদ ও মাদরাসায় প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা জমা হয়।

মসজিদ কমিটির অন্য সদস্যরা দানের টাকা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করে জমা রাখার জন্য বললেও নুরুজ্জামান তাতে কর্ণপাত করেননি। আর তাতে প্রশ্রয় দেন গ্রামের আরেক বাসিন্দা নূর আলী। এ নিয়ে মসজিদ কমিটির অন্য সদ্যস্য ও সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মাদরাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ব্যাংকে অ্যকাউন্ট করে টাকা জমা দেয়ার কথা বললে সেই বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে।

বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে সর্বশেষ গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সালিশ বৈঠক ডাকেন অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সাদী। ওই সালিশ বৈঠকে নুরুজ্জামান টাকা ফিরিয়ে দেবেন বলে জানান।

পরে ১০ নভেম্বর তিনি ফান্ডের টাকা ফেরত দেন। কিন্তু টাকা ফেরত দিলেও নুরুজ্জামান, নূর আলী ও তার ভাতিজা বাবুল মিয়া আক্রোশ পোষণ করতে থাকেন। গত কয়েকদিন আগে জয়নাল আবেদীনের সমর্থকরা গ্রামের পূর্বপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলতে গেলে নূর আলীর ভাতিজা বাবুল মিয়া বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় বাবুল আহত হন।

এর জের ধরে গত রোববার বিকেলে জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের কয়েকজন ছেলে গ্রামের একটি কবরস্থান জিয়ারতে গেলে বাবুল মিয়া ও তার লোকজন ওই ছেলেদের ওপর হামলা করেন। এ নিয়ে গ্রামের বকশিপাড়া এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২৫জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের প্রায় তিনশ শতক জমিতে রোপণ করা আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন সবজির চারা মাটিতে মিশিয়ে দেয় নূর আলী ও বাবুল মিয়ার সমর্থকরা।

ওই এলাকার তফসির মিয়া নামে একজন জানান, আমরা শতাধিক পরিবার পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজির বীজ ও চারা রোপণ করেছিলাম। সংঘর্ষে আমাদের জমির মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মাদরাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, আমরা সচ্ছতার সাথে মসজিদ-মাদরাসার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করতে বলেছিলাম। এ নিয়েই বিরোধ তৈরি হয়।

তবে এ ব্যাপারে নূর আলী ও বাবুল মিয়ার কোনো বক্তব্য চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমরা এই ঘটনায় কোনো পক্ষের মামলা নেয়নি। সংঘর্ষে আমাদের পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে, তাই পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

এআর/এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও