নিম্নমানের অভিযোগে আশুগঞ্জে সড়ক মেরামত বন্ধ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

নিম্নমানের অভিযোগে আশুগঞ্জে সড়ক মেরামত বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ১২:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

নিম্নমানের অভিযোগে আশুগঞ্জে সড়ক মেরামত বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার একটি আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার কাজ নিম্নমানের অভিযোগে সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সড়ক সংস্কার কাজটি নিম্নমানের হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

এ বিষয়ে তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগের অনুলিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীকেও দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরাসার দিয়ে সংযুক্ত হওয়া এই সড়ক দিয়ে আশুগঞ্জ সদর-তালশহরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা যাতায়াত করে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সংস্কার কাজের জন্য গত বছরের ১৬ জুন দরপত্রসহ সকল আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করা করে কর্তৃপক্ষ।

মেসার্স লোকমান হোসেন এন্ড মেসার্স মোস্তফা কামাল নামে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ৮ কিলোমিটার সড়ক ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকায় ওই সড়কের সংস্কার কাজের কার্যাদেশ পায়।

চলতি বছরের জুন মাসে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাজ শুরু করেন ঠিকাদারেরা। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন আশপাশের জনগণ। শিডিউলে যে মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কথা ছিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তার চেয়ে অনেক নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এসব অভিযোগে এলাকাবাসীর আপত্তিতে কাজটি কয়েকদিন বন্ধ রাখেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে সঠিকভাবে করার আশ্বাসে কাজটি পুনরায় শুরু করেন। কিন্তু তারা আগের মতোই নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করে স্থানীয়রা।

সরেজমিন ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের ইটের খোয়া, বিটুমিন এবং মাটি মিশ্রিত পাথরসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে চলছে সংস্কার কাজ। ছোট পাথরের সাথে শতকরা ৩০ ভাগ ডাস্ট থাকলেও কাজ করা হচ্ছে প্রায় তিনগুন ডাস্ট মিশ্রিত পাথর দিয়ে। আবার বেশির ভাগ সড়কের মেরামত কাজে দেখা গেছে ইটের খোয়ার বদলে পুরনো পিচ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে সহজেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। নিম্নমানের কাজ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, বার বার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার পরও তারা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই কাজ করে যাচ্ছেছিলেন। এই বিষয়ে আমিসহ তালশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু সামা ও আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। ওই লিখিত অভিযোগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সড়কের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছি।

তবে সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স লোকমান হোসেনের স্বত্ত্বাধিকারী লোকমান হোসেন বলেন, যেটা মাটি বলছে, সেটা পাথরের ডাস্ট। ৩০ শতাংশ পাথরের সাথে ডাস্ট ধরা থাকে। ডাস্ট দিলে তো বিটুমিন বেশি লাগে। এটা শিডিউলে ধরাই আছে এভাবে।

স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শিরাজুল ইসলাম সড়কটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে মুঠোফোনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি সড়কটি পরিদর্শন করেছি। যেহেতু স্থানীয়রা চাচ্ছেন না তাই কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিকাদার ও স্থানীয়রা সাথে কথা বলে দেখি কোন সমাধান হয় কিনা।

এ অবস্থায় শনিবার থেকে সড়ক সংস্কার কাজটি সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

এআর/জেডএস

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও