আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সরাইল মুক্ত দিবস

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সরাইল মুক্ত দিবস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সরাইল মুক্ত দিবস

আজ ৮ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এ দিন বিনা যুদ্ধে হানাদারমুক্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও সরাইল উপজেলা।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলাকে হানাদারমুক্ত করার পর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ দক্ষিণ দিক থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। একই সঙ্গে মিত্রবাহিনীর ৫৭তম মাউন্টের ডিভিশন আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেললাইন ও উজানিসার সড়ক দিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। শহরের চারপাশে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর শক্ত অবস্থানে থাকায় হানাদার বাহিনী পিছু হটতে থাকে।

তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৬ ডিসেম্বর রাজাকারদের সহায়তায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক কেএম লুৎফুর রহমানসহ কারাগারে আটকে রাখা অর্ধশত বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে পৌর শহরের কুরুলিয়া খালের পাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে হানাদার বাহিনী।

এছাড়া শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা কলেজের হোস্টেল, অন্নদা স্কুল বোর্ডিং, বাজার ও গুদামসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরদিন ৭ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে আশুগঞ্জের দিকে পালাতে থাকে। ৮ ডিসেম্বর বিনা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মুক্ত ঘোষণা করে।

এদিন সকাল ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযুদ্ধের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জহুর আহমেদ চৌধুরী। একই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের অব্যাহত আক্রমণে পরাস্ত হয়ে হানাদাররা পালিয়ে যায়। শত্রুমুক্ত হয় সরাইল উপজেলাও।

দিনটি পালনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন ও ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

এআর/এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও