পুুলিশের অভিযানে নারী-শিশুদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

পুুলিশের অভিযানে নারী-শিশুদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ!

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১১:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮

print
পুুলিশের অভিযানে নারী-শিশুদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ!

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দিনে-রাতে বাসা-বাড়ি তল্লাশির নামে নারীদের সাথে অশ্লীল আচরণ ও শিশুদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে চট্টগ্রামের ডিআইজি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি বরাবরে আবেদন করেছেন ওই উপজেলার এডভোকেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আশরাফুল কবির নামের দুই ব্যক্তি।

অভিযোগে তারা উল্লেখ করেছেন, গত ১০ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর আড়াইটায় উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের আজগর আলী সিকদার’র বাড়ি ঘিরে ফেলে ৩০ থেকে ৩৫ জনের পুলিশের একটি দল। ওই সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত (ইউনিফর্মধারী) সদস্যদের সাথে সাদা পোশাকে অপরিচিত বেশ কিছু বখাটে অংশ নেয়।

বাড়িটিতে অভিযানের সময় ৭-৮ জন পুলিশ সদস্য ঘরে তল্লাশির সময় মহিলাদের সাথে অশ্লীল আচরণ করে এবং শিশুদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। ওই সময় সময় পুলিশ তল্লাশির নামে ঘরের অভ্যন্তরে ব্যাপক ভাংচুর ও জিনিসপত্র তছনছ করে। পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে বাড়ির মহিলারা আতংকিত হয়ে পড়েছিলেন।

অভিযানের নামে পুলিশের আচরণকে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন দাবি করে অভিযোগকারীরা অভিযানের সময় বাড়িতে যাতে কোনো ভাংচুর বা মালামাল তছনছ না করে এই বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার জন্য জোর দাবি জানান। একই সাথে অভিযানের নামে নারীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও অশ্লীল আচরকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি করেন অভিযোগকারীরা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে দাগী, পলাতক, সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভূক্ত আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। এই জন্য বাসা-বাড়িতে তল্লাশি চালাতে হয়। কিন্তু অভিযানের সময় নারীদের সাথে অশ্লীল আচরণ করার কোনো মানে হয় না। আর এধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর ও চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট আমিনুল হক বাবু বলেন, পুলিশ অপরাধী গ্রেফতার করবে বা গ্রেফতারের জন্য সন্দেহজনক স্থানে অভিযান চালাবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু অভিযানকালে নারী ও শিশুদের সাথে যাতে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা তারা কষ্ট না পায় বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি কেউ এমন আচরণ করে থাকে এটা চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্গন। তিনি আরও বলেন, যেহেতু একটা অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের উচিত অভিযোগটি তদন্ত করে যদি সত্যতা পাওয়া যায়, দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগতভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

জেএইচ/আরজি

 
.



আলোচিত সংবাদ