দ্রুত বন্দরের সক্ষমতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি দাবি চিটাগাং চেম্বারের

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

দ্রুত বন্দরের সক্ষমতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি দাবি চিটাগাং চেম্বারের

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮

print
দ্রুত বন্দরের সক্ষমতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি  দাবি চিটাগাং চেম্বারের

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের তুলনায় বন্দরের কর্মকাণ্ড অধিক গতিশীল কারার জন্য দাবি জানিয়েছেন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম । বন্দরের উন্নয়ন, গতিশীলতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সমস্যা ও তা সমাধানের লক্ষ্যে ১১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান কমোডোর জুলফিকার আজিজ এর সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বন্দর চেয়ারম্যানের প্রতি এই দাবি জানান।

সভায় চেম্বার সভাপতি বলেন ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নের গতি ১০০ মাইল হলে বন্দরের গতি ১৫০ মাইল হতে হবে। বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট কর্তৃক ডকুমেন্টেশনসহ নানান চার্জ আদায় বন্ধ করা, কন্টেইনারের সিকিউরিটি মানির নামে ৫ হাজার টাকা জমা বন্ধ করা, ম্যানিফেস্টেড কার্গো নিয়ে কোন জাহাজ যাতে বন্দর ত্যাগ না করে তা নিশ্চিত করা, কতিপয় আইসিডি কর্তৃক কন্টেইনারের অতিরিক্ত হ্যান্ডলিং চার্জ বন্ধ করা, সদরঘাটে নির্মিত লাইটার জেটির অপারেশন শুরু করা, নির্মানাধীন লাইটার জেটিসমূহে ট্রাক/কাভার্ডভ্যান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, স্পেশাল পারমিশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ বাতিল করা, বন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট জরুরী ভিত্তিতে সংগ্রহ করাসহ লালদিয়া, পতেঙ্গা এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার আহবান জানান।

মতবিনিময় সভায় চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, মো. শাহরিয়ার জাহান ও তরফদার মো. রুহুল আমিনসহ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এ.কে.এম. আক্তার হোসেন, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আহসানুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বন্দর চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোর জন্য নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে অনৈতিকভাবে শিপিং এজেন্ট কর্তৃক কোন ধরণের চার্জ আদায় করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

এছাড়া তিনি শিপিং এজেন্ট কর্তৃক ডি.ও. ইস্যু বিকেল ৫.০০টার পরও অব্যাহত রাখতে হবে, বার্থিং তারিখের পরিবর্তে জাহাজ থেকে সম্পূর্ণ পণ্য খালাসের পর বন্দরের কমন ল্যান্ডিং থেকে ফ্রি টাইম কাউন্ট করাসহ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত আইসিডি নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে, স্পেশাল পারমিশনের নামে কোন ধরণের চার্জ আদায় করা এবং সাধারণ কার্গোর ক্ষেত্রে শিপিং এজেন্ট কর্তৃক সিকিউরিটি মানি জমা রাখা যাবে না বলে উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি বন্দরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সদরঘাটে নির্মিত লাইটারেজ জেটি অপারেশন শীঘ্রই শুরু এবং বে টার্মিনাল এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে ইয়ার্ড নির্মাণের মাধ্যমে কন্টেইনার ডেলিভারীর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যা বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে বলে তিনি জানান। একই সাথে ম্যানিফেস্টেড কার্গো রেখে জাহাজ বন্দর ত্যাগ না করা ও কন্টেইনারের ডেমারেজ চার্জের ক্ষেত্রে এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

সভায় অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সমস্যা তুলে ধরে তা সমাধানে বন্দর চেয়ারম্যানের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। এছাড়া ইলেকট্রনিক লক ও সীল বিধিমালা কার্যকর হলে বন্দরের গতিশীলতা হ্রাস পাবে এবং পণ্য ডেলিভারীর ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপন বৃদ্ধি পাবে বলে মতামত ব্যক্ত করেন এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ইতোমধ্যে ব্যবাসায়ীদের পক্ষ থেকে পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও বন্দর চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।

জেএইচ/আরজি

 
.



আলোচিত সংবাদ