মন্ত্রীর আগমনে সড়ক ফাঁকা করতে পুলিশের ধাওয়া, দুর্ঘটনায় ২ নারীর মৃত্যু

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

মন্ত্রীর আগমনে সড়ক ফাঁকা করতে পুলিশের ধাওয়া, দুর্ঘটনায় ২ নারীর মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

print
মন্ত্রীর আগমনে সড়ক ফাঁকা করতে পুলিশের ধাওয়া, দুর্ঘটনায় ২ নারীর মৃত্যু

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর আগমনের খবরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় হঠাৎ করেই বেশ তৎপর হয়ে উঠে হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় জেলার চান্দিনায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে গিয়ে পিকআপ চাপায় রিকশা আরোহী দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মহাসড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ রিকশাচালক ও এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার পালকি সিনেমা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধের পর পুলিশ ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এসময় আবুল হোসেন (৩৮) ও কাউসার হোসেন (২২) নামে দুই অবরোধকারীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত দুই নারী হলেন- লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার শাহ আলমের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৫৫) ও তার ভাইঝি চান্দিনার হাড়িখোলা গ্রামের নান্না মিয়ার মেয়ে জান্নাত (২৪)। তারা দুজনই চান্দিনা বাজার থেকে ঈদের কেনাকাটা শেষে বাবার বাড়ি হাড়িখোলায় যাচ্ছিলেন।

জানা যায়, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আগমনের বার্তায় মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে এবং থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ রাখতে কঠোর হয়ে উঠে হাইওয়ে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টায় চান্দিনা বাস স্টেশন থেকে দুই নারী যাত্রীকে নিয়ে হাড়িখোলা যাচ্ছিল ব্যাটারিচালিত একটি রিকশা। ওই রিকশাটি চান্দিনা পালকি সিনেমা হল সংলগ্ন স্থানে পৌঁছার পর হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য রিকশাটিকে ধাওয়া করে।

এ সময় পিছন থেকে আসা একটি মাল বোঝাই পিকআপের সাথে ধাক্কায় পিকআপ ও রিকশা উল্টে ঘটনাস্থলে রিকশা যাত্রীদের একজন নিহত হন। অপর নারী যাত্রীকে (৩০) গুরুতর আহতাবস্থায় চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসময় রিকশাচালক, পিকআপ চালক ও তার ভাই গুরুতর আহত হন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দেবিদ্বার উপজেলার আসাদনগর গ্রামের বিধান চন্দ্র দাসের ছেলে অতিন চন্দ্র দাস (২২)-এর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে অবরোধ করে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবরোধে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় ক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি করে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।

খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আবিদ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মহিদুল ইসলাম, চান্দিনা উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সী, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম জাকারিয়া, সহকারী কমিশনার ভূমি তুষার আহম্মদ, চান্দিনা পৌরসভার মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ চান্দিনা থানা ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ্ মো. আবিদ হোসেন জানান, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। সেখানে রিকশা উঠবে কেন? এছাড়া মহাসড়ক অবরোধ করা মারাত্মক অপরাধ। যারা মহাসড়ক অবরোধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেডএস/এএল/

 
.




আলোচিত সংবাদ