বাসের লাইনম্যান থেকে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সহসভাপতি ইয়াবা কিং শাহাজান

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

বাসের লাইনম্যান থেকে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সহসভাপতি ইয়াবা কিং শাহাজান

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:২৯ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৮

print
বাসের লাইনম্যান থেকে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সহসভাপতি ইয়াবা কিং শাহাজান

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পর্যটন শহর কক্সবাজার। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত। এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত, যা কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফের বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন।

এতোসব ছাড়িয়ে পর্যটন শহর কক্সবাজার এখন ইয়াবার জন্যও বিখ্যাত! পর্যটন ব্যবসার আড়ালে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনকে এখন ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট।

বর্তমানে কলাতলিতে ৩টি হোটেল ভাড়া নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ডিকেটটি। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন শাহাজান আনসারী ও কাশেম আনসারী নামের দুই ভাই।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, এই শাহাজান আনসারী কক্সবাজার শহরের সবচেয়ে বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী।

কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের টার্গেট করে এই সিন্ডিকেটটি যাত্রা শুরু করে। এখন এই সিন্ডিকেটটি কক্সবাজারের বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলি পর্যন্ত পুরো পর্যটন কেন্দ্রটিকে ইয়াবার রমরমা হাটে পরিণত করেছে। কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের জন্য হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু করেছে এই সিন্ডিকেট। বিভিন্ন হোটেলে আগত পর্যটকদের রুমে রুমে ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে তারা।

ইয়াবা আসক্ত পর্যটকদের খুঁজে আনার জন্য ৪টি মোটরসাইকেলে করে ৮ জন যুবককে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। ওই ৮ যুবকের নেতৃত্বে রয়েছে ১০টি সিএনজি-চালিত অটোরিকশা, ১০টি ব্যাটারিচালিত টমটম ও ১০টি রিকশা।

ওই বাহনগুলো বাস থেকে নামা পর্যটকদের টার্গেট করে। পর্যটকদের ফুসলিয়ে ইয়াবার অফার দিয়ে তাদের শাহাজান আনসারীর হোটেলে নিয়ে যায়।

সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, শাহাজান আনসারীর পরিচালিত কলাতলির লেগুনা বিচ হোটেল হলো ইয়াবার গোডাউন। এই হোটেলে পর্যটকের ছদ্দবেশে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা অবস্থান নেয়। পরে ওই ব্যবসায়ীরা হোটেল থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শাহাজান আনসারী এক সময় কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকায় বাসের লাইনম্যানের চাকরি করতেন। ৭ বছর আগের দৈনিক ২শ’ টাকার লাইন্সম্যান থেকে আজ তিনি কক্সবাজারের ধনাঢ্য ব্যক্তি। তার রয়েছে কলাতলিতে অভিজাত হোটেল, আলিশান বাড়ি-গাড়ি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরব ও দুবাইতেও ব্যবসা খুলেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শাহাজাহান আনসারী কক্সবাজারের পর্যটনকেই ইয়াবা ভাসিয়ে দমে জাননি। তার অবৈধ টাকা দিয়ে এখন কক্সবাজারের ক্রীড়াঙ্গনও নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। কোনো ধরনের যোগ্যতা ছাড়াই হয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। এর পরে তার চোখ পড়ে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের উপর।

শাহাজাহান আনসারী বিপুল টাকা খরচ করে হয়ে যান জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি।

ফুটবলের সাথে শাহাজাহান আনসারীর জড়িয়ে যাওয়ার পেছনেও রয়েছে ইয়াবার কানেকশন। টেকনাফে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। টেকনাফে ফুটবলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন দেশের ১ নাম্বার ইয়াবা ব্যবসায়ী হাজী সাইফুল করিম। আর হাজী সাইফুলের ইয়াবা পার্টনার হলেন শাহাজান আনসারী। কক্সবাজার জেলা ফুটবল দলের সাবেক এক অধিনায়ক ও এক ফুটবলারকে হাত করেই জেলার ফুটবল জগতে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন শাহাজান আনসারী।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানিয়েছেন, শাহাজান আনসারীসহ কক্সবাজারের লিস্টে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে তারা সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। এইবার সরকার মাদককে আর ছাড় দিবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের যত শক্তিশালী সিন্ডিকেট হোক, তা ভেঙে দেয়া হবে।

এনএনএম/এসবি/এএসটি
আরও পড়ুন...
টার্গেট কক্সবাজারের ইয়াবা গডফাদাররা

 
.




আলোচিত সংবাদ