কৃষ্ণচূড়ায় রঙ্গিন কুমিল্লা

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

কৃষ্ণচূড়ায় রঙ্গিন কুমিল্লা

জহির শান্ত, কুমিল্লা ১:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৮

print
কৃষ্ণচূড়ায় রঙ্গিন কুমিল্লা

রঙ লেগেছে কৃষ্ণচূড়ায়। বসন্ত ছাড়িয়ে গ্রীষ্মের শুরু থেকেই সবুজ চিরল পাতার মাঝে রক্তিম এ পুষ্পরাজি তার আভা ছড়িয়ে দিয়েছে কুমিল্লার পথে-প্রান্তরে। রোদ্র তাপের প্রখরতায় ভরা প্রকৃতিতে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া সৌন্দর্য বিলাচ্ছে পুরো নগরীর আনছে-কানাছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও কোলাহলপূর্ণ নগরীতে ঘুরে বেড়ানো মানুষজন উপভোগ করছে তার নির্মল সৌন্দর্য। পড়ন্ত বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে বাড়তি পাওনা হিসেবে মন রাঙ্গিয়ে নিচ্ছেন কৃষ্ণচূড়ার রঙ্গে।

গত কয়েকদিনে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রুদ্র-রোষে পুড়তে থাকা প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দিতে নিজের সবটুকু রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে কৃষ্ণচূড়া। নগরের প্রধান ও একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ধর্মসাগড় পাড়, নগর উদ্যান, আদালত চত্ত্বর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ছাড়াও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে-মোড়ে, অফিস প্রাঙ্গণ কিংবা বাসভবনের সামনে অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া গাছ ডাল-পালা ছাড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত এ গাছটি সৌন্দর্য ছড়াতে ছড়াতে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে জেলা শিল্পকলা একাডেমী, মোগলটুলি টেলিগ্রাফ অফিস প্রাঙ্গণ, ফোজদারী মোড়, জেলা পরিষদ ও নগর ভবনের কারাস্তার পাশে, রাণীর কুটির ভেতরে, স্টেশন ক্লাব প্রাঙ্গণ, জিলা স্কুল চত্বরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশে। এছাড়াও হাউজিং এস্টেটসহ নগরীর অধিকাংশ স্থানেই দেখা মিলে রক্তরাঙা ফুলে আচ্ছন্ন কৃষ্ণচূড়া গাছের। নগরবাসী প্রাণভরে উপভোগ করছে এর সৌন্দর্য, নিচ্ছে ছায়াও।

স্কুল পড়ুয়া পুত্র সন্তান সাফিকে নিয়ে ধর্মসাগর পাড়ে ঘুরতে বেরিয়েছেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদিক মামুন। ছেলের আবদারে কৃষ্ণচূড়ার একটি ছোট্ট ডালা তুলে দিয়েছেন তার হাতে। বৃহস্পতিবার বিকেলের নির্মল পরিবেশে সাগর পাড়ে হাটতে হাটতে কথা হয় তার সাথে।

তিনি জানান, সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা শান্তির নগরী কুমিল্লায় নান্দনিক এক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়েছে কৃষ্ণচূড়া। গাছের ডালে সবুজ পাতার ফাক গলে বেড়ে উঠা লাল রঙ যেন আমাদের স্বাধীন সত্ত্বার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

কেবল নগরীতেই নয়, কৃষ্ণচূড়া তার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে রাঙিয়ে তুলেছে গ্রামের সবুজ প্রান্তর, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ও বাড়ির আঙ্গিনা, পুকুর ঘাট, নদীর আল। নগর ঘেঁষে বয়ে চলা গোমতী নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া গাছ। ডালে ডালে ফুটে আছে ফুল। নাগরিক কোলাহল ছাড়িয়ে শান্ত বিকেলে অনেকেই হাজির হন গোমতীর পাড়ে; উপভোগ করেন প্রকৃতির সুনীবিড় সৌন্দর্য। শুধু গ্রাম নয়; শহরতলী ও এর আশপাশের অনেকেই ঘুরতে আসেন সেখানে। সাথে থাকে পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধু-বান্ধবী। শহরের ফাস্টফুড-রেস্টুরেন্ট কিংবা বিনোদন কেন্দ্র ছেড়ে অনেক প্রেমিক জুটিরও দেখা মেলে গোমতীর দু’পাড়ে; ছায়া-সুনীবিড় কৃষ্ণচূড়ার তলে...

কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং বিভিন্নজনের সাথে কথা বলে জানা গেলো, বৈশাখের খরতাপ ছাপিয়ে মনে প্রেমের শিখা জ্বালিয়ে দেয়া রক্তাভ কৃষ্ণচূড়া কিছুটা শঙ্কাও জাগিয়েছে তাদের মাঝে। গেলো কিছুদিনে নগরীতে উন্নয়নের বাহানায় যে হারে বৃক্ষনিধন হয়েছে; কোনো দিন না আবার সাবাড় করে ফেলা হয় সৌন্দর্য বিলানো এই কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোও।

তাই নগরীতে আপন শৈলীতে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো জেনো পরিপূর্ণ পরিচর্যা নিয়ে টিকে থাকতে পারে- এ ব্যাপারে নগর ভবন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। গ্রীষ্মের ঘামঝরা দুপুরে প্রশান্তির ছায়া-সৌন্দর্য এনে দেয়া সবুজ চিরল পাতার মাঝে রক্তিম পুষ্পরাজি আরো অনেক অনেক দিন বেঁচে থাকুক নাগরিক কোলাহল এড়িয়ে- প্রকৃতিপ্রেমী কুমিল্লাবাসীর কামনা একটাই...

জেএস/এসএফ

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad