আগের চেয়ে বেশি কৌশলী জঙ্গিরা

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫

আগের চেয়ে বেশি কৌশলী জঙ্গিরা

আশিক মাহমুদ ১১:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৮

print
আগের চেয়ে বেশি কৌশলী জঙ্গিরা

নাশকতাকালীন সময়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নে আগের চেয়ে আরও বেশি কৌশলী হয়েছে জঙ্গিরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে শীর্ষ জঙ্গি নেতা নিহত এবং গ্রেফতারের ফলে নেতৃত্ব শূন্য হওয়ায় তারা নতুন কৌশলে হাঁটছে বলে ধারণা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্লেষকরা। নতুন কৌশলের শুরুর দিকে হোঁচট খেলেও ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে তারা বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

শুক্রবার রাজধানী ঢাকার পশ্চিম নাখালপাড়ায় রুবি ভিলায় জেএমবির গড়া এক আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অভিযানে জেএমবির তিন সদস্য নিহত হন। মূলত এই আস্তানায় অভিযান শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণে জঙ্গিদের নতুন কৌশলের বিষয়টি উঠে এসেছে।

র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, এই আস্তানায় যে তিন জঙ্গি অবস্থান নিয়েছিলেন, তারা বিশেষ একটি সেল গঠন করে ঢাকায় বড় ধরনের নাশকতা করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

গত বছরেও জঙ্গি সংগঠনগুলোর গ্রেফতারকৃত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটি) ও র‌্যাব বলেছিল, তাদের প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা ইউনিট রয়েছে। যেমন- সুইসাইডাল স্কোয়াড, বোমা বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি।

এছাড়া হামলার টার্গেট জায়গায় বা ব্যক্তিকে জঙ্গিরা দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করত। হামলার দিনে তারা ঘটনাস্থলে আসত।

কিন্তু টার্গেট এলাকায় একসঙ্গে জঙ্গিরা জড়ো হয়ে নতুন সেল গঠন ও এর বাস্তবায়নে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম মজুদ এই প্রথম বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মনে হয়েছে।

এছাড়া আগে জঙ্গিরা তাদের আস্তানা তৈরিতে একক ফ্ল্যাট বা বাড়ি ভাড়া করতেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে বাসাভাড়া নিতেন না। কিন্তু এই বাসাভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রে জঙ্গিরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন।

র‌্যাবের ওই সূত্রের ধারণা, মানুষের সঙ্গে মিশে তারা তাদের ‘মিশন কমপ্লিট’ করতে চেয়েছিলেন। জঙ্গিদের এই কৌশলটাও নতুন। তার কারণ ওই বাসায় সাতজন সদস্য ছিলেন- এদের মধ্যে চারজনের জঙ্গিবাদের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছয়তলা বিশিষ্ট বাড়ির পাঁচ ও ছয় তলায় ব্যাচেলর ভাড়া দেয়া। নিচের সব ফ্লোরে ফ্যামেলি ভাড়া দেয়া। বাড়িটির পাঁচ তলায় দুইটি ফ্ল্যাট। প্রতিটি ফ্ল্যাটে তিনটি করে কক্ষ। জঙ্গিরা পূর্ব পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের অন্য দুই কক্ষে আরও চারজন শিক্ষার্থী থাকেন।

জঙ্গি আস্তানার ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটে ঢুকতেই হাতের বাম পাশের কক্ষ ছিল জঙ্গিদের। ওই কক্ষে বিছানা আর বালিশ ছাড়া তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো আসবাবপত্র নেই। তাও এগুলো একপাশে গুটিয়ে রাখা। দরজার একটু সামনেই দুটি পিস্তল পড়ে আছে। আর বাকি সব জায়গা রক্তে লাল। সেই রক্ত গড়িয়ে পাশের রান্না ঘরে গিয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আজকের অভিযানে দেখেছি অন্যান্য জঙ্গি আস্তানা থেকে এটি ভিন্ন। আমাদের ধারণা জঙ্গিরা আগের চেয়ে অনেক কৌশলী। তবে গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে তাদের সব পরিকল্পনা আমরা গুড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি।

এ বিষয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, জঙ্গিরা যত কৌশলী হোক না কেন আমরা তাদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের দেশ। এখানে উগ্র মতাদর্শীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আপরাধ বিশ্লেষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে জঙ্গিরা এখন কোণঠাসা। তারা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। জঙ্গি মারা যায় কিন্তু তাদের মতাদর্শ মরে না। তারা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে এটা খুবই স্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু তারা ঘুরে দাঁড়াতে যায়, সেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নতুন নতুন কৌশক অবলম্বন করবে। যেন তারা ঠিকে থাকতে পারে এবং তারা তাদের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারে। আর সেল গঠন প্রক্রিয়াও তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই।’

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সম্প্রতি সময়ে অনেক জঙ্গিবিরোধী অভিযান হচ্ছে। কিন্তু জঙ্গিবাদের মতাদর্শের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মতাদর্শ তৈরিতে আমরা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছি, বলেন এই অপরাধ বিশ্লেষক।

এএম/এসবি/এমএসআই

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad