পরিবারকে স্বচ্ছল করতে ঢাকায় এসেছিল কচি
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

পরিবারকে স্বচ্ছল করতে ঢাকায় এসেছিল কচি

প্রীতম সাহা সুদীপ ১:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

পরিবারকে স্বচ্ছল করতে ঢাকায় এসেছিল কচি

পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করার আশায় গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে আট বছর আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন সৈয়দা কচি (৩৮)। বাবা না থাকায় দুই বোন মিলে ধরেছিলেন সংসারের হাল। পরিবারের দেখাশোনা করতে গিয়ে বিয়েও করা হয়নি কচির।

মঙ্গলবার রাতে স্কুটি চালিয়ে যাওয়ার সময় মহাখালীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই তরুণী। ওই দুর্ঘটনায় মারা যান তার সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সোনিয়া আক্তারও (৩২)।

দুর্ঘটনাস্থলে কচির নিথর দেহের পাশেই পাওয়া যায় তার কর্মস্থলের আইডি কার্ড। তাতে কচির পূর্ণাঙ্গ নাম উল্লেখ ছিল- দুলদানা আক্তার কচি। আন্তর্জাতিকমানের কসমেটিকস পণ্য বিপণন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পার্ল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই নারী। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম দেয়া সৈয়দা কচি।

জানা গেছে, নিহত কচি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরসভার বাজিতপুর এলাকার মৃত সৈয়দ ফজলুল হকের মেয়ে। আর তার বান্ধবী সোনিয়া ভোলা সদর উপজেলার মাকবেদুরিয়া গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে।

দুর্ঘটনার পর সড়কে পড়ে থাকা নিহতদের রক্তাক্ত নিথর দেহের কিছু ছবি মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে ওই ছবি দেখার পরই গ্রাম থেকে পরিচিত এক ব্যক্তি ফোন করে ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা কচির মামা অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন ভূঁইয়ার কাছে বিষয়টি জানান। পরে বুধবার সকালে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ভাগ্নির মরদেহ শনাক্ত করেন।

নুরুল আমিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, দুই বোনের মধ্যে কচি ছোট। ওর বড় বোনের নাম চুমকি। বাবা মারা যাওয়ার পর বোনদের উপার্জনেই সংসার চলতো। আট বছর আগে ঢাকায় এসে পার্ল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে চাকরি শুরু করে কচি। বিয়ে করেনি সে। কল্যাণপুরে একরুমের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। চলাফেরার সুবিধার জন্য স্কুটি কিনেছিল, সেটি নিয়েই অফিসে যাতায়াত করতো।

তিনি আরো বলেন, কচি প্রতিদিন সকাল ৯টায় বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যেত, আবার রাত ১১টার আগেই বাসায় ফিরতো। কচির সাথে আরেকটা মেয়ে যে মারা গেছে, ওর নাম সোনিয়া। ওরা দুজন খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। কচিদের গ্রামের বাড়িতেও কয়েকবার গিয়েছে সোনিয়া। সেও একটি চাকরি করতো, থাকতো শাহআলী থানার পাশেই একটি বাসায়।

ঘাতক গাড়ি শনাক্তে ফুটেজ পর্যালোচনা করছে পুলিশ:

মধ্যরাতে কচি ও সোনিয়ার স্কুটিকে কোন গাড়ি চাপা দিয়ে গেছে সেটি শনাক্ত করতে দুর্ঘটনাস্থলের ফুটেজ পর্যালোচনা করছে পুলিশ। ওই ঘটনায় বনানী থানায় একটি মামলাও হয়েছে।

বুধবার বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরে আযম মিয়া পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানান।

ওসি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পিএসএস/এএসটি

আরও পড়ুন...
মহাখালীতে মধ্যরাতে সড়কে গেল দুই নারীর প্রাণ

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও