করোনাভাইরাসের প্রভাবে লাগামহীন ফেস মাস্কের দর
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

করোনাভাইরাসের প্রভাবে লাগামহীন ফেস মাস্কের দর

জাহিদ সুজন ৫:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২০

করোনাভাইরাসের প্রভাবে লাগামহীন ফেস মাস্কের দর

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ৩৬১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এদিকে, পুরো চীনে ১৭ হাজার ২০৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চীনের সবগুলো প্রদেশ ছাড়াও অন্তত ২০টি দেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ বাংলাদেশে শনাক্ত না হলেও এই ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে ফেস মাস্কের বাজারে। এরই মধ্যে কয়েকগুণ দাম বেড়েছে সার্জিকাল ফেস মাস্ক ও ফিল্টার ফেস মাস্কের। দাম বাড়লেও অধিকাংশ ঔষধের দোকানে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১০ দিন আগেও চীন থেকে আমদানিকৃত প্রোমিস্কো ব্র্যান্ডের সার্জিকাল ফেস মাস্কের পাইকারী বাজার দর ছিল ৫৫ টাকা (১ বক্সে ৫০টি)। পাশাপাশি এই সার্জিকাল ফেস মাস্কের প্রতিটির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ছিল ৫ টাকা। কিন্তু সোমবার প্রতি বক্স সার্জিকাল ফেস মাস্ক পাইকারী ২৫০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কম থাকায় প্রতিটি মাস্ক খুচরা বাজারে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, গেট ওয়েল ব্র্যান্ডের সার্জিকাল ফেস মাস্কের পাইকারী বাজার দর ছিল ৭০ টাকা (১ বক্সে ৫০টি)। প্রতিটি মাস্ক খুচরা ৫ টাকায় বিক্রি হতো। গত ৫ দিন যাবত এই মাস্কও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

সার্জিকাল ফেস মাস্ক ছাড়াও বাজারে ফিল্টার মাস্কের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে প্রত্যেকটি ফিল্টার মাস্কের পাইকারী মূল্য ২০ টাকা। যা বাজারে খুচরা সর্বোচ্চ ৪০ টাকায় বিক্রি হতো। কিন্তু বর্তমানে ২০০ টাকায়ও ফিল্টার মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না।

মাস্কের এমন সংকটের কারণ জানতে চাইলে মিটফোর্ডের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মূলত চীন থেকেই সার্জিকাল ফেস মাস্ক ও ফিল্টার ফেস মাস্ক আমদানি করা হতো। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ঘাটতি দেখা দিয়ে। যা মজুদ ছিল তাও শেষ হয়েছে।

তারা বলেন, করোনাভাইরাসের শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশে মাস্কের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে আমদানিকারকরা।

এ বিষয়ে খুচরা ঔষধ ব্যবসায়ী ফিরোজ ফার্মার মালিক মাসুদুর রহমান বিশ্বাস বলেন, চীনে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তা মহামারী আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছে আমদানিকারকরা।

তিনি আরো বলেন, ৫৫ টাকার প্রোমিস্কো ব্র্যান্ডের সার্জিকাল ফেস মাস্কের দাম রাখছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

হঠাৎ সার্জিকাল ফেস মাস্কের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে প্রোমিস্কো ফার্মাসিটিক্যালসের অ্যাকাউন্ট ডিভিশনের কর্মকর্তা শাহীন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমাদের কাছে বর্তমানে সার্জিকাল ফেস মাস্ক নাই। আমরা একমাস আগেই সব ৫৫ টাকা করে বিক্রি করে দিয়েছি।

 তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি চীনের অধিকাংশ কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই এখন অর্ডার দিলেও দুই থেকে তিন মাসের আগে এ মাস্ক আসার সম্ভাবনা নাই।

জেডএস/

 

বিশেষ আয়োজন: আরও পড়ুন

আরও