আইনজীবীর ছেলে-শ্যালককে অপহরণ, অতঃপর...

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

আইনজীবীর ছেলে-শ্যালককে অপহরণ, অতঃপর...

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

আইনজীবীর ছেলে-শ্যালককে অপহরণ, অতঃপর...

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে অপহৃত দুই ছাত্রকে ডেমরা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগ। সেই সাথে অপহরণচক্রের ৮ সদস্যকেও গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন-  মো. ফকর উদ্দিন, মাহমুদুর রহমান রাসেল, মো. রশিদুজ্জামান ওরফে তুষার, মো. শফিকুল ইসলাম, এইচ এম মশিউর রহমান ওরফে পাপ্পু, ইমতিয়াজ আহমেদ, আরিফুল ইসলাম ওরফে নিশান ও মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান।

শনিবার রাতে রাজধানীর ডেমরা, মতিঝিল ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত ১ টি প্রাইভেটকার, ৩ টি মোটরসাইকেল, ম্যাগজিনসহ ১ টি পিস্তল, ৫টি ডিএমপির ডিবি পুলিশের পোশাক (জ্যাকেট), ডিএমপির পুলিশ সার্জেন্টের র‌্যাঙ্কব্যাজসহ ১ টি ইউনিফর্ম শার্ট এবং পুলিশ কনস্টেবল পদমর্যদার ১ টি শার্ট, ৭ টি ষ্টিলের লাঠি, ৩ টি কালো রংয়ের ছোট বড় ওয়্যারলেস সেট, ৪টি পিস্তল সদৃশ্য লাইটার, ৫টি সিরিঞ্জ, ২০টি ইনজেকশন, ১ সেট সেনাবাহিনীর পোশাক তৈরির থান কাপড়, ১৫ টি বিভিন্ন কোম্পানীর মোবাইল সেট (সিম সংযুক্ত) এবং ১টি আইপ্যাড উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন।

তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা আইজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাঃ ফখরুল ইসলামের ছেলে তানজিম আল-ইসলাম দিবস ও তার শ্যালক খালিদ হাসান ধ্রুব গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে অপহৃত হয়। অপহৃত তানজিম রাজধানীর ধানমন্ডির ভার্টিক্যাল হরিজন (ভিএইচ) ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ‘এ’ লেভেল এবং খালিদ হাসান ধ্রুব ঢাকা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।

আবদুল বাতেন আরো বলেন, ঘটনার দিন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জিগাতলার বাসা থেকে মহাখালী ব্রাক ইউনিভার্সিটিতে যান তানজিম। দুপুর ২টার দিকে তার বোনের সাথে সর্বশেষ কথা হয়। বোনকে তিনি জানান- মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডে কাজ শেষে মামা খালিদ হাসান ধ্রুবকে নিয়ে বাসায় ফিরবেন। এরপর তানজিমের বাবা ফখরুল ইসলাম ও বোন কয়েক দফায় তার মোবাইল ফোনে কল করে সেটি বন্ধ পায়।

পরদিন বুধবার রাত সাড়ে ৩টায় অপরিচিত একজন লোক তানজিমের মাকে ফোন করে জানায় তানজিম ও তার মামা ধ্রুবকে অপহরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তানজিমের বাবা মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করে। অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা নৌকা কোড ব্যবহার করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং  শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে মুক্তিপণ দিতে হবে, না দিলে ভিকটিমদের হত্যা করা হবে এমন হুমকি প্রদান করে।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সবাই পেশাগত অপহরণকারী চক্র। পূর্বে তারা অপহরণ করে জেল খেটেছে। ভিকটিম তানজিমের বাবা তাদের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। সে সুবাদে অপহরণকারীদের ভিকটিমের পরিবার সম্পর্কে বিস্তর ধারণা ছিল। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই তারা তানজিম ও তার মামা ধ্রুবকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।

অপহরণের ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান আবদুল বাতেন।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও