মৃত, প্রবাসী ও বন্দিরাও ভোট দিয়েছে চট্টগ্রামে: বিএনপি
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

মৃত, প্রবাসী ও বন্দিরাও ভোট দিয়েছে চট্টগ্রামে: বিএনপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২০

মৃত, প্রবাসী ও বন্দিরাও ভোট দিয়েছে চট্টগ্রামে: বিএনপি

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ আসনে মৃত ব্যক্তি, প্রবাসী ও জেলবন্দি থাকা ব্যক্তিরাও ভোট দিয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা এ নির্বাচন বাতিল করে প্রচলিত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কার্যালয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।

পরে বৈঠক শেষে দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনে কি ঘটেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রকাশ হয়েছে। সেটি নিয়ে আজ কথা বলেছি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের চেয়েও অনেক বেশি খারাপ হয়েছে এই নির্বাচন। নির্বাচন ব্যবস্থা অধিকতর খারাপের দিকে যাচ্ছে। উন্নতি তো দূরের কথা অবনতির দিকে যাচ্ছে, ফলে আস্থাহীনতা বাড়ছে।’

চট্টগ্রামে সব কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘১৭০ পোলিং স্টেশনের মধ্যে সবগুলোই দখল করে নিয়েছিল ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী কেন্দ্রে বাইরের কেউ থাকতে পারবেন না, গাড়ি-মোটরসাইকেল চলবে না। কিন্তু সেখানে চট্টগ্রাম বিভাগের যত মেয়র, কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতাদের অবস্থান দৃশ্যমান ছিল। সবাই সরসরি কেন্দ্র দখল করেছে, মিছিল করেছে। যেখানে ভোট দেয় তা দখল করে নিয়েছে। মৃত মানুষের ভোট, প্রবাসীদের ভোট, জেলে থাকাদের ভোটও দিয়েছে। ইভিএমে ভোট ডাকাতি হয় চট্টগ্রামের ভোটে তা প্রমাণিত।’

আমির খসরু বলেন, ‘চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেয়নি। যারা যেতে পেরেছে তারা আঙুলের ছাপ দিয়েছে, ব্যালট ইউনিটে ভোটের কাজ তারা সেরে ফেলেছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও যেখানে ইভিএমে ভোট হয়েছে সেখানেও এমন হয়েছে, চট্টগ্রামে তারচেয়েও খারাপ হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কমিশনকে অনুরোধ করেছি চট্টগ্রামের নির্বাচনটি বাতিল করে দিন। ব্যালটের মাধ্যমে পুনর্নির্বাচন দিন। কারণ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার সেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। সেখানে কেন্দ্রে দখল করেছে, ইভিএমের পাসওয়ার্ড নিয়েছে, ব্যালট ইউনিটে তারা ভোট দিয়েছে। আমরা বলেছি ভোট বাতিল করে ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা করুন।’

আমীর খসরু মাহমুদ জানান, ইভিএমের ভোটে জালিয়াতি হলেও চ্যালেঞ্জের কোনো সুযোগ নেই। কারণ এতে অডিট ট্রেইল ও পেপার ট্রেইল নেই। ভারতের মেশিনে কিন্তু এগুলো আছে। তারপরও ভারতের চেয়ে ১১ গুণ বেশি টাকায় ইভিএম মেশিন কেনা হয়েছে। বিশ্বের পাঁচ ছয়টি দেশে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে। সেখানকার নির্বাচন কমিশন বা সরকার প্রশ্নবিদ্ধ নয়। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এবং সরকার পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইভিএম না সরালে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধি নির্বাচন করার যে ক্ষমতা তা হারিয়ে ফেলবে। প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পরও যারা ইভিএম নিয়ে আগাতে চায় তারা বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়।’

নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে চলছে না। সারাদেশে যেমন দখল দারিত্ব, খবরদারি চলছে তেমনি কমিশনে আওয়ামী লীগের খবরদারি চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কমিশন কি বলেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা বলছে সব ঠিক আছে। আগে ৩০ ডিসেম্বরেও বলেছিল সব ঠিক আছে, এখনও তাই বলছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উত্তরের প্রার্থী তাবিথের ওপর হামলা হয়েছে। এ্যানিসহ ১৫ জন হামলায় আহত হয়েছেন। ঢাকার নির্বাচনে তারা রাস্তার ওপর অফিস করেছে, পোস্টার লাগিয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রার্থীকে বাধা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকার খবরদারি চালাচ্ছে বলে মনে করি। কমিশনের ওপর সমস্ত আস্থা হারিয়ে ভোট ব্যবস্থা চলছে। কমিশনের ওপর ন্যুন্যতম আস্থা থাকলে বিএনপি ভোটে অংশ নিচ্ছে এটিই কমিশনের প্রতি আস্থা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু জনগণের কোনো আস্থা নেই।’

ইসির পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ও অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে অন্যদের মধ্যে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণের বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।

এইচকে/এইচআর
আরও পড়ুন...
ইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও