ধর্ষণের পর ঢাবি ছাত্রীর কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেছিল মজনু

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

ধর্ষণের পর ঢাবি ছাত্রীর কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেছিল মজনু

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

ধর্ষণের পর ঢাবি ছাত্রীর কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেছিল মজনু

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের সব আলামত মিলেছে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার মজনু ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দেয়া তথ্যে হুবহু মিল পেয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা  গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি যেসব আলামত উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছিল, তার প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। ওই রিপোর্টের সাথে ধর্ষক মজনুর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনের মিল রয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হাসপাতালে তার কাছ থেকে নেয়া তথ্যের সঙ্গে মজনুকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের হুবহু মিল রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এখন কেবল ওই তরুণীর ভ্যাজাইনাল সোয়াবের সঙ্গে মজনুর ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন মেলানো বাকি। এ ছাড়া বাকি সব পরীক্ষার প্রতিবেদন মিলেছে। তাতে এটি প্রতীয়মান হয় যে মজনুই ওই ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে।

গ্রেফতারের পরদিন গত ৮ জানুয়ারি মজনুকে আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি মজনুর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেদিন থেকেই ডিবির হেফাজতে মজনুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে মজনু। ঢাবি শিক্ষার্থী ছাড়াও মজনু গত ১০ বছর ধরে একাধিক তরুণী, ভবঘুরে, প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক নারীকে ধর্ষণ করেছে। অনেককে হত্যার হুমকি দিয়েও ধর্ষণ করেছে মজনু।

জিজ্ঞাসাবাদে মজনু জানায়, ঘটনার দিন পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে ওই ছাত্রীকে ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে যায় সে৷ এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার চেচামেচি করলেও রাস্তায় চলাচলকারী দ্রুতগতির যানবাহনের শব্দে তা ঢাকা পড়ে যায়। এক পর্যায়ে সে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের পর ওই তরুণীর কাছে সে ৫০০ টাকা দাবি করে। মেয়েটি তার ব্যাগে টাকা আছে জানালে মজনু অন্ধকারে ব্যাগ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যাগ পাওয়ার পর ভেতরে টাকা খুঁজতে থাকে সে। আর এই ফাঁকে মেয়েটি ছুটে পালায় ঘটনাস্থল থেকে।

আলোচিত ওই ঘটনার পর গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর শেওড়া রেল ক্রসিং থেকে মজনুকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে এলিট এই ফোর্সটির গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, মো. মজনু পেশায় দিনমজুর ও হকার। তবে এই পেশার আড়ালে সে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধেও জড়িত ছিল। ধর্ষণের মতো অপকর্মও এটাই প্রথম নয়। মজনু মূলত একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। সে আগেও এমন অপকর্ম করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

সারওয়ার বিন কাশেম আরো বলেন, মজনুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা গ্রামে। দশ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় আসে সে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে অন্যান্য অপরাধমূলক কাজের পাশাপাশি সিরিয়াল রেপের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

ঘটনার দিন কুর্মিটোলার ওই স্থানে ওঁৎ পেতে ছিল মজনু। ঢাবি ছাত্রীকে দেখে সে আলোড়িত হয়, তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পাজাকোলা করে তাকে উঠিয়ে ঝোঁপের মধ্যে নিয়ে যায়। জায়গাটা ঝোঁপের আড়াল, মানুষের চলাচল খুবই সীমিত ছিল। সেখানে ওই ছাত্রীকে গলা চেপে ধরে একাধিকবার হত্যারও চেষ্টা করে মজনু।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি কুর্মিটোলা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় বাস থেকে নামার পর ধর্ষণের শিকার হন ঢাবি শিক্ষার্থী। তিনি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্ষণিকা’ নামের দোতলা বাসে (ঢাবি-টঙ্গী রুট) বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে ওই ছাত্রীকে একজন ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে উল্লেখ করা হয়।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও