সারওয়ার আলীকে হত্যাচেষ্টা ডাকাতির ঘটনা: পিবিআই

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

সারওয়ার আলীকে হত্যাচেষ্টা ডাকাতির ঘটনা: পিবিআই

পরিবর্তন প্রতিবেদক: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

সারওয়ার আলীকে হত্যাচেষ্টা ডাকাতির ঘটনা: পিবিআই

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলীকে হত্যা চেষ্টাকে ডাকাতির ঘটনা বলে দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। যদিও ঘটনার পর ভুক্তভোগী এটিকে জঙ্গি হামলা বলে দাবি করেছিলেন।

সোমবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, তারা সোমবার ভোর ৬টায় উত্তরা থেকে মো. ফরহাদ (১৮) নামে ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক যুবককে গ্রেফতার করেছেন। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দায়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার তরুণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বশির আহমেদ বলেন, ওই ঘটনায় সাতজন জড়িত। তাদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী হলেন ডা. সারওয়ার আলীর স্ত্রীর সাবেক গাড়ি চালক নাজমুল।

পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেফতার ফরহাদ ডে লেবার হিসেবে কাজ করে। গত ৩ জানুয়ারি তাকেসহ আরো একজনকে দৈনিক ৫০০ টাকা চুক্তিতে কাজে নেয়া হয়। পরে এ চক্রে আরো চারজন যোগ হয়ে আশকোনার একটি রেস্টুরেন্টে বসে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন বিকালেও আশকোনার রোজ ভ্যালি হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে সাতজন পরিকল্পনা করে এবং সন্ধ্যার পরে তারা ঘটনাস্থলে যায়।

বশির আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে ডাকাতি বলেই মনে হচ্ছে। টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিতে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ফরহাদ জানিয়েছে। তবে কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার করলে বেরিয়ে আসবে।

ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ দুজন ছাড়া অন্যদের নাম পরিচয় জানানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান পিবিআই কর্মকর্তা।

ঘটনার দিনের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বশির বলেন, উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ওই বাসার তৃতীয় তলায় সারোয়ার আলীর মেয়ে এবং চতুর্থ তলায় তিনি নিজে থাকেন। দুর্বৃত্তদের দুজন প্রথমে তৃতীয় তলায় গিয়ে মেয়ে, মেয়ের স্বামী ও সন্তানকে জিম্মি করে। তাদেরকে আঘাত করে সারোয়ার আলীর অবস্থান জানতে চায়। চতুর্থ তলার ফ্লাটের কথা বললে একজন উপরে যায় এবং দরজায় নক করে। দরজা খোলা হলে প্রথমে সারোয়ার আলীর স্ত্রী ও পরে সারোয়ার আলীকে জিম্মি করে। পরে তৃতীয় তলা থেকে আরো একজন আসে।  এ সময় তারা চিৎকার করলে দ্বিতীয় তলায় থাকা এক মেজর এবং তার ছেলে গিয়ে তাদের বাঁচান। এরমধ্যে সারোয়ার আলীর মেয়ে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের দিয়ে সহায়তা চাইলে তাৎক্ষণিক পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, বাসায় দুজনই গিয়েছিল, বাকি পাঁচজন বাসার আশপাশে ছিল। ফরহাদও বাসার আশপাশে অবস্থান করছিল। তবে পুলিশ যে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করিয়েছে, তারা এই সাতজনের বাইরে। তবে গ্রেফতার ওই দুজনেরও এ ঘটনায় সহযোগিতা রয়েছে।

হামলার সঙ্গে দুজন শিক্ষিত যুবক রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। এছাড়া কোনো এক বিষয়ে ডা. সারোয়ার আলীর সঙ্গে তর্ক করার কারণে চালক নাজমুলকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল বলে জানান বশির আহমেদ।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি রাত সোয়া দশটায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. সারওয়ার আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুই দুষ্কৃতকারী তার উত্তরার বাসভবনে ঢুকে। সারওয়ার আলীকে তারা আঘাত করতে না পারলেও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রী মাখদুমা নার্গিস, তাদের মেয়ে সায়মা আলী ও জামাতা হুমায়ুন কবির ও দুই প্রতিবেশী।

হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মামলা করেন সারওয়ার আলী।

পিএসএস

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও