ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতা এনু-রূপন গ্রেফতার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতা এনু-রূপন গ্রেফতার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতা এনু-রূপন গ্রেফতার

মতিঝিলের ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ক্যাসিনোকাণ্ডের অন্যতম হোতা দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রূপন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ও ১২টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা এই দুই ভাই। তাদের মধ্যে এনু গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আর ছোট ভাই রুপন যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে যে ক্যাসিনো পরিচালিত হয়ে আসছিল, তার অন্যতম শেয়ার হোল্ডার ছিলেন এনামুল। অন্যদিকে আরামবাগ ক্লাবের ক্যাসিনোতে শেয়ার ছিল তার ছোটভাই রুপনের।

গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পুরান ঢাকার বানিয়া নগরে এনু-রূপনের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এছাড়া অভিযান চালানো হয় তাদের  কর্মচারী আবুল কালাম ওরফে কালা এবং এনুর বন্ধু হারুন উর রশিদের বাসায়।

এ সময় সিন্দুকভর্তি প্রায় ৫ কোটি টাকা, আট কেজি সোনা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। কিন্তু অভিযানে দুই ভাইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি, মূলত তখন থেকেই পলাতক ছিলেন এনু-রূপন।

দুই ভাইকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি ইমতিয়াজ বলেন, ঘটনার পরপরই তারা কক্সবাজার গিয়ে আত্মগোপন করে। সেখান থেকেই তারা ভুয়া পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে মায়ানমার, ভারত সর্বশেষ নেপাল যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

তিনি আরো বলেন, তদন্তে এনামুল হক এনু এবং রূপন ভুঁইয়ার নামে ঢাকায় ২২টি বাড়ি ও জমির সন্ধান পাওয়া যায়।  এছাড়াও তাদের ব্যবহৃত পাঁচটি যানবাহনের সন্ধান পাই। বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের নামে ৯১টি ব্যাংক হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে প্রায় ১৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার তথ্য পেয়েছি। যা বর্তমানে ফ্রিজ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়া ও নারিন্দা এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এনু-রূপন।

এনু-রুপনরা ছয় ভাই, সবাই পুরান ঢাকায় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে যুক্ত। তাদের মধ্যে শুধুমাত্র এনামুল হকেরই ঢাকা শহরে ১৫টি বাড়ি রয়েছে। আর পুরান ঢাকার ওয়ারী, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, বংশাল, কোতোয়ালি থানা এলাকায় এই পরিবারের ৫০টির মতো বাড়ি রয়েছে।

১৯৮৫ সাল থেকেই এনামুল ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও রুপন আরামবাগ ক্লাবে জুয়া খেলত। বছর তিন-চার আগে হঠাৎই দুই ভাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি কিনতে শুরু করে। গড়ে তুলে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বজায় রাখতে পান থেকে চুন খসলেই অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন তারা।

জুয়ার টাকায় এনামুল ও রূপন কেবল বাড়ি ও ফ্ল্যাটই কেনেননি, ক্ষমতাসীন দলের পদও কেনেন বলে জানা যায়।

২০১৮ সালে এনামুল পান গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ। আর রূপন পান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ। তাদের পরিবারের ৫ সদস্য, ঘনিষ্ঠজনসহ মোট ১৭ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে পদ পান। তারা সরকারি দলের এসব পদ-পদবি জুয়া ও ক্যাসিনো কারবার নির্বিঘ্নে চালানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

পিএসএস

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও