রুম্পার ‘প্রেমিক’ সৈকত আটক

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

রুম্পার ‘প্রেমিক’ সৈকত আটক

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:২৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

রুম্পার ‘প্রেমিক’ সৈকত আটক

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার কথিত প্রেমিক সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি দক্ষিণ বিভাগ) উপ-কমিশনার (ডিসি) রাজিব আল মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৈকতকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তবে তাকে আটক করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির গেটের সামনে থেকে রুম্পার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পরদিন থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় রমনা থানার পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগও (ডিবি) ছায়া তদন্ত করে।

রুম্পার স্বজন ও সহপাঠীরা অভিযোগ করেছেন, রুম্পা হত্যার সঙ্গে তার প্রেমিক সৈকত জড়িত থাকতে পারে। বেশ কিছুদিন ধরে সৈকতের সঙ্গে রুম্পার সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় রুম্পাকে এড়িয়ে চলছিল সৈকত।

রুম্পার চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যার পর রুম্পাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়, এটা নিশ্চিত। তদন্ত চলছে, দেখা যাক কি হয়। আমার ভাতিজির সঙ্গে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছেলের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। তাদের ভেতরে ঝামেলা চলছিল বলে আমরা শুনেছি। এই ঘটনার সঙ্গে ওই ছেলের কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমরা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা এই বিষয়ে খোঁজ খবর নেবে।

তিনি আরো বলেন, রুম্পা ওই এলাকায় একটি বাড়িতে টিউশনি করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে নিজ বাসার নিচে আসে রুম্পা। এরপর বাসায় ফোন করে চাচাতো ভাইকে বাসার নিচে স্যান্ডেল নিয়ে যেতে বলে। পরে হিল স্যান্ডেল খুলে সেই স্যান্ডেল পরে রুম্পা। এরপর চাচাতো ভাইয়ের কাছে কানের দুল, ঘড়ি, হিল জুতা ও টাকাসহ ব্যাগ দিয়ে দেয়। বলে এগুলো উপরে নিয়ে যা, আমার আসতে দেরি হবে।

রুম্পার চাচা প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি রুম্পার আত্মহত্যা করার ইচ্ছা থাকতো, তাহলে সে কেন বাসায় এসে আবার বেরিয়ে গেল। আত্মহত্যার পরিকল্পনা হলে তো আমাদের বাড়ির ছাদই আছে। ওখানে যাবে কেন? নাকি কোনো ঝামেলা ছিল, তাই এগুলো রেখে গিয়েছিল? এসব ভাল করে তদন্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেছিলেন, রুম্পার ছেলেবন্ধু সৈকতের বিরুদ্ধে আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তবে এটি হত্যাকাণ্ড এমন আশঙ্কা করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রুম্পার লাশ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রুম্পা ওই এলাকায় থাকতেন না। তিনি থাকতেন শান্তিবাগে। সুতরাং প্রাথমিকভাবে আমরা এমনটাই ধরে নিয়েছি যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই আমরা আমাদের তদন্ত কাজ চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

পিএসএস/এসবি

আরও পড়ুন...
রুম্পার মৃত্যু: উত্তাল স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও জটে
জুতার ছাপ নিয়ে রহস্য, সন্দেহের তালিকায় প্রেমিকও

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও