সম্রাটের উত্থান যেভাবে
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

সম্রাটের উত্থান যেভাবে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

সম্রাটের উত্থান যেভাবে

ইসমাইল হোসেন চৌধুরীর বাবা ফয়েজ আহমেদ ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ শ্রেণির সামান্য কর্মচারী। তার জন্ম ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর গ্রামে হলেও পিতার চাকরির সুবাদে ঢাকাতে বড় হন সম্রাট। রাজনীতিতে সম্রাটের আগমন ঘটে ১৯৯০ দশকের শুরুর দিকে। এ সময় কিছুদিন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অবশ্য তার আগে এরশাদের জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রসমাজের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানা গেছে। নব্বইয়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সম্রাট ছিলেন রমনা অঞ্চলের আন্দোলনের সংগঠক। নির্যাতন ও জেল খেটে ‘সম্রাট’খ্যাতি পান তিনি।

এর পর বিএনপির ১৯৯১-৯৬ আমলে ছাত্রলীগ ছেড়ে দিয়ে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০৩ সালে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে সময় দক্ষিণের সভাপতি ছিলেন মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। মূলত শাওনই সম্রাটকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে সম্রাট ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি হন। এর পর আর তার পেছনে তাকাতে হয়নি। 

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে রাজধানীর ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে চেনেন অনেকে। যুবলীগের রাজনীতি করলেও তার নেশা ও পেশা জুয়া খেলা। জুয়ার ব্যবসা করে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। প্রতি মাসেই একবার সিঙ্গাপুরে যেতেন জুয়া খেলার জন্য। মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, পল্টন এলাকাসহ অন্তত ১০টি ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন তথ্য রয়েছে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

শুধু ক্যাসিনো ব্যবসাই নয় এই ব্যবসার পাশাপাশি যুগলীগের নেতা হওয়ার সুবাধে চাঁদাবাজিতেও ছিলেন দক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জাকাত ও দানের টাকা দিতেন আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামে। সেখান থেকেও চাঁদা নেয়ার নজির ঘটিয়েছেন এই সম্রাট। দক্ষিণের সভাপতি হওয়ার সুবাধে তার ছিল বিশাল বাহিনী।অফিস থেকে বের হয়ে কোথাও গেলে তাকে প্রটোকল দিতেন শতাধিক নেতাকর্মী। অবৈধ উপার্জনের টাকা দিয়েই এই বিশাল বাহিনী পালতেন তিনি। 

দক্ষিণ যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা মিল্কীর হত্যাকাণ্ডের পর পোয়াবারো হয় সম্রাটের। মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল, বাড্ডা এলাকায় অপরাধ জগতের একক আধিপত্য তৈরি করেন তিনি। সম্রাট ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সঙ্গে মিলে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি জিসানও দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছে। তাকে দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে। 

সম্রাটের ঘনিষ্ঠ দুই সহচর হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ (কাউন্সিলর) ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।ক্যাসিনো কাণ্ডে যাকে সর্বপ্রথম গ্রেফতার করা হয়। যুবলীগের অপর প্রভাবশালী নেতা জি কে শামীমও সম্রাটকে অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন। পরে তাকে দিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা দেখভাল করাতেন তিনি।খালেদকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যেই ফেঁসে যান জি কে শামীম ও সম্রাট। কয়েক দিন আগে জি কে শামীমকে গ্রেফতার করা হলেও নজরদারিতে রাখা হয় সম্রাটকে। সর্বশেষ আজ রোববার ভোরে কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম সক্রিয় কর্মী হিসেবে দলীয় সমাবেশগুলো সফল করতে টাকা ও জনবল সরবরাহের কাজ করতেন সম্রাট। এসবের মাধ্যমে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। ওমর ফারুক চৌধুরী সম্রাটকে এক সময় যুবলীগের শ্রেষ্ঠ সংগঠক ঘোষণা করেন। 

এমকে/আরপি

আরও পড়ুন...
ক্যাসিনো ‘গডফাদার’ ছিলেন সম্রাট
যুবলীগ নেতা সম্রাট গ্রেফতার
কাকরাইলে সম্রাটের কার্যালয় ঘিরে র‌্যাবের অবস্থান
সম্রাট ও আরমান যুবলীগ থেকে বহিষ্কার
যেভাবে গ্রেফতার হলেন সম্রাট

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও