জঙ্গি হামলায় পা হারানো সবুরের কথায় কেঁদেছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

জঙ্গি হামলায় পা হারানো সবুরের কথায় কেঁদেছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৯

জঙ্গি হামলায় পা হারানো সবুরের কথায় কেঁদেছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ

২০০২ সালে ময়মনসিংহে একসাথে ৪টি হলে বোমা হামলা করেছিল জঙ্গিরা, এর মধ্যে দুইটি হলে চলছিল চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদের সিনেমা। ওই ঘটনায় ২৭ জন নিহত হন, পরে আহতদের দেখতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান রিয়াজ।

সেখানে বোমা বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন সবুর। তবে পছন্দের নায়ককে সামনে পেয়ে কিছুক্ষণের জন্য সব যন্ত্রণা ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সেদিন সবুরের পাশে দাঁড়িয়ে কেঁদেছিলেন নায়ক রিয়াজও।

মঙ্গলবার কল্যাণপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে ‘জাগো তারুণ্য রুখো জঙ্গিবাদ’ শীর্ষক সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের জঙ্গিবাদ বিরোধী সেমিনারে নিজের সেই অভিজ্ঞতা বিনিময় করলেন নায়ক রিয়াজ।

তিনি বলেন, আমি কোনদিন ভুলব না, সবুর নামে একজন ব্যক্তি; বোমা বিস্ফোরণে যিনি দুই পা হারিয়েছেন তার পাশে দাঁড়ানোর পর তিনি বললেন- ‘দুই পা হারায়ছি তো কি হয়েছে আপনি আমাকে একটা অটোগ্রাফ দেন’। তার ওই কথা শোনার পর আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, সেখানে দাঁড়িয়ে অঝোরে কেঁদেছিলাম।

রিয়াজ আরো বলেন, আমরা বাঙালিরা অনেক সহজ-সরল। আমাদের এই সরলতার সুযোগ নিয়ে ধর্মের মিথ্যা ভয় ও বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের জঙ্গিবাদের দিকে নিতে চাচ্ছে একটি মহল।

জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা- এগুলো কারা করেছে? তরুণদের ব্যবহার করা হয়েছে এসব হামলায়।

তিনি বলেন, ভুল পথ থেকে সরে আসতে হবে তরুণদের। পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে কোরআন হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা ও তর্জমা নিয়ে। তাহলেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

অনুষ্ঠানের সুচিন্তা ফাউন্ডেশন এবং এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে আজ সারাবেলা সম্পাদক জব্বার হোসেন বলেন, ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং অধিকার। সেই বিশ্বাস ও অনুভূতির জায়গাটিতে তারা আঘাত করছে ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের লোভে। যার সঙ্গে ধর্মের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই।

কল্যাণপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল শাহনাজ বেগম বলেন, আমরা কি চাইবো জঙ্গিবাদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিত হোক? অবশ্যই না। আমরা চাই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ একটি দেশ হোক।

সুচিন্তা’র গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে আশরাফুল আলম শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মে জঙ্গিবাদ সমর্থন-অসমর্থন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

পিএসএস/এসবি

 

: আরও পড়ুন

আরও