বিলম্বে ছাড়ছে ট্রেন, ভিড় বেশি উত্তরে

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

বিলম্বে ছাড়ছে ট্রেন, ভিড় বেশি উত্তরে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

print
বিলম্বে ছাড়ছে ট্রেন, ভিড় বেশি উত্তরে

ঈদ যাত্রার পঞ্চম দিনে ভিড় বেড়েছে কমলাপুর রেল স্টেশনে। তবে উত্তরবঙ্গের ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় বেশি দেখা গেছে।যাত্রীরা জানিয়েছেন, বাসে বেশি সময় লাগা এবং রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম থাকায় তারা ট্রেনকেই বেছে নিয়েছেন।বৃহস্পতিবার কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সাতটি প্লাটফর্মে হাজার হাজার মানুষ। কেউ যাচ্ছেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সাথে দল বেঁধে।

এই স্টেশন থেকে সারা দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেন ছুটে চলে। তবে এবারের ঈদ উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি মানুষ চলাচল করছে উত্তরবঙ্গের দিকে। সকাল থেকেই রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া অঞ্চলের মানুষদের চলাচলের ট্রেনগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। এছাড়া খুলনাগামী ট্রেনগুলোতেও ভিড় ছিল উল্লেখ করার মতো।

রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেসে চাপাচাপি করে, ভিড় ঠেলে উঠেছেন মো. নাইমুর রহমান, বেসরকারি একটি কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমি পরিবারের সবাইকে আগেই পাঠিয়ে দিয়েছি। আজ আমি যাচ্ছি। কিন্তু এতো মানুষ! মনে হচ্ছে আমার সিটের কাছেই এখন যেতে পারব না।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ ও মহানগর এক্সপ্রেস এবং ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে তেমন ভিড় নেই। 

জামালপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া দেওয়ানগঞ্জ এক্সপ্রেসের অনেক সিট ফাঁকা দেখা গেছে। ট্রেনটি কমলাপুর ছাড়ে দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে।

এ দিন ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের খুব বেশি তৎপরতা দেখা যায়নি। অনেকে ট্রেনের ভিতরে সিট থাকার পরও ছাদে ভ্রমণ করছেন।

মো. পারভেজ, যাবেন জামালপুর। ঢাকায় এসে কোরিয়া যাওয়ার জন্য সেই দেশের ভাষা শিখছেন। দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ছাদে উঠে বসে থাকা অবস্থায় এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় তার।

তিনি বলেন, চাপাচাপি করে যেতে ভালো লাগে না, তাই ছাদে যাচ্ছি। ওদিকে ভিতরে জায়গা এমনকি সিট খালি থাকার পরও ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছেন কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ছাদে গেলে বাতাস লাগে, ভালো লাগে। তাই যাচ্ছি। আর একটু পরই লোকজন দিয়ে ভিতরে ভরে যাবে বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু ট্রেনটি ছেড়ে গেলেও সিটগুলোও দেখা যায় খালি রয়েছে।

এদিকে, বেশ কিছু ট্রেন বিলম্বে কমলাপুর থেকে ছেড়েছে। নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও বিলম্বে কমলাপুর ছেড়েছে ১১টা ২৫ মিনিটে, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও তা ছেড়ে গেছে ৭টা ২৫ মিনিটে, ধূমকেতু এক্সপ্রেসও নির্ধারিত সময়ের পর ছেড়ে গেছে। লালমনি ঈদ স্পেশাল সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ১২টার পর ঢাকা ছাড়ে। সকাল ৯টার রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায় ১০টা ১৫ মিনিটে। দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যায় সাড়ে ১০টায়। অপরদিকে রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে। কিন্তু সময় দেখানো মনিটরে সম্ভাব্য ছাড়ার সময় দেখায় ৪টা ৫০ মিনিটে। রাজশাহী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়ার সময় ছিল ১২টা ২০ মিনিটে, কিন্তু ট্রেনটি ছাড়ে পৌনে ৩টায়।

এই ট্রেনের যাত্রী ডা. সাদিয়া আরেফিন সেতু। একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৫-১৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট পাওয়ার পর ট্রেনের জন্য আবার অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রতিবারই এরকম সমস্যা হয়। আমি ও আমার হ্যাজবেন্ড রাজশাহীতে (বাড়ি) যাচ্ছি। এই ট্রেনটি যদি ৪টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে তাহলে তাহলে রাজশাহী পৌঁছাতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগবে। প্রতিবারই এমন হচ্ছে। এ বিষয়ে  আরও নজরদারি বাড়ানো উচিত।

ট্রেনের বিলম্ব হওয়ার কারণ সম্পর্কে  কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আজ ঢাকা ছাড়বে মোট ৬৯টি ট্রেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে কিছু ট্রেন ছাড়তে বিলম্বিত হয়েছে। আজকে অন্যন্য দিনের চেয়ে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় এর মধ্যেই চেষ্টা করছি শিডিউল ঠিক রাখতে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাওয়া-আসার সময় স্টেশনে উঠানামা করতে সময় বেশি লাগছে। আগে যেখানে ২ মিনিট অপেক্ষা করার কথা সেখান ৫/১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে ট্রেনগুলো আমাদের এখানে পৌঁছাতেই দেরি করছে। এজন্য আমাদের গাড়িগুলোও দেরিতে ছাড়তে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন সঠিক সময়েই সব ট্রেন ছেড়ে যেতে পারে।

গত ৫ জুন যারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ১৫-২০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন তারাই আজ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন। 

এসআই/এএল/

 
.




আলোচিত সংবাদ