তিন বছরেও সমন্বয়হীনতা দূর করতে পারেননি মেয়র খোকন

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

তিন বছরেও সমন্বয়হীনতা দূর করতে পারেননি মেয়র খোকন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮

print
তিন বছরেও সমন্বয়হীনতা দূর করতে পারেননি মেয়র খোকন

রাজধানীবাসীর সুন্দর জীবন-যাপন নিশ্চিতের জন্য ৫৬টি সেবা সংস্থা কাজ করছে। আর এসব সেবা সংস্থার কাজে সমন্বয় করার দায়িত্ব দেয়া আছে ঢাকার দুই মেয়রকে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন তার চিন্তা বাস্তবায়ন ও নাগরিকদের উন্নত জীবন-যাপন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতায় ভুগছেন।

বুধবার নগর ভবনে ডিএসসিসি আয়োজিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাঈদ খোকন এমনটাই জানালেন।

তিনি বলেন, সমন্বয়ের দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে সফলতা সেভাবে আসেনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ৩২টি উন্নয়ন কাজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সাঈদ খোকন।

মেয়র নিজে থেকেই বলেছেন, উন্নয়ন কাজে ১০০ ভাগ সফলতা না এলেও শতভাগ চেষ্টা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে বিগত ১০ বছর ঢাকার উন্নয়নের সঙ্গে চলতি ৩ বছরের উন্নয়নের পার্থক্য করে দেখার অনুরোধ করেছেন ডিএসসিসি মেয়র।

তিনি বলেন, সব কিছু মেয়র চাইলে হয় না। আমাদের চেষ্টা থেকে যাবে। চেষ্টার দিকে ১০০ ভাগ সফল আমরা।

সফলতার কথা সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে তুলে ধরলেও কোন কাজে কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তার কোনো চিত্র নেই। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে কি পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে সে বিষয়ে সাংবাদিকরা মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও জবাব আসেনি।

ওয়েস্ট বিনে সফলতা কেন নেই?

নগরবাসীর জন্য চিপসের খোসা, পানির বোতল, ক্যান, টিস্যু পেপার ইত্যাদি হালকা আর্বজনা যত্রতত্র না ফেলে এসব বিনে ফেলে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে সংস্থার ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১০০টি করে ৫ হাজার ৭০০টি ওয়েস্ট বিন স্থাপন করা হয়েছিল।

মেয়র বলেন, নতুন উদ্যোগ হিসেবে এটি প্রশংসিতও হয়েছিল। কিন্তু নগরবাসীর কেউ কেউ এটি ভেঙে নিয়ে ফুলের টব, চাল, ডাল রাখার পাত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। মাদকাসক্তরা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন, দুর্ঘটনাতেও কিছু নষ্ট হয়েছে। আমরা এগুলো পুনরায় মেরামত করার চেষ্টা করছি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য কিছু নেই!

সিটি করপোরেশনের মূল দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম দায়িত্ব বর্জ্য অপসারণ। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কিছু বিগত ৩ বছরে দৃশ্যমান করে তা সফলতার তালিকায় তুলে ধরতে পারেননি সাঈদ খোকন।

এ বিষয়ে মেয়র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নসহ নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নগরীকে পরিচ্ছন্ন করার ধারণা বদলে দিতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এটি এখনও চলমান আছে।

তিনি বলেন, নানা ধরনের উদ্যোগের ফলে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ঢাকা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। তবে প্রত্যাশা আরও অনেক বেশি। কাঙ্ক্ষিত পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে সকলের সার্বিক মনোজগতে পরিবর্তন আনতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ১০টি এসটিএস নির্মাণ করে উদ্বোধন করা হয়েছে। আরো ১৩টির নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্ত। ডিএসসিসি ও প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিদিন প্রায় ৮০০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ টন ক্ষতিকর বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিবেশ সম্মতভাবে পরিশোধন করা হচ্ছে। তাদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওয়েস্টবিন স্থাপন, আবর্জনার কন্টেইনারসমূহকে দৃষ্টির আড়ালে রাখার লক্ষ্যে বর্জ্যবাহী কন্টেইনারগুলোকে ফেন্সিং করে দেয়া হয়েছে। এসটিএস নির্মাণ সমাপ্ত হলে কন্টেইনারগুলোকে এর মধ্যে স্থাপন করা হবে। তখন সড়কে কোনো কন্টেইনার থাকবে না।

মশক নিধনে উদ্যোগ রয়েছে, সফলতা নিয়ে প্রশ্ন?

গত মাসে সকল পত্রিকার শিরোনাম ছিল মশা- এমনটা উল্লেখ করে মশক নিধনের নানা কার্যক্রম তুলে ধরেন মেয়র সাঈদ খোকন।

সেই সময় এডিস মশা নিধনের একটা পন্থা নিয়ে কথা বলে সমালোচিত হয়েছিলেন মেয়র। তিনি বলেছিলেন, কারো বাসায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জেল-জরিমানা করা হবে। তবে সেই বক্তব্য পরে প্রত্যাহার করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মশা নিধনের বিষয়ে মেয়র বলেন, মশকের বংশ বিস্তার রোধকল্পে ফগিং এবং লার্ভিসাইডিংয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ, ডেঙ্গু মশার উপদ্রুব থেকে নগরবাসীকে রক্ষাকল্পে বাসাবাড়ি/গৃহ/বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ফ্রিজ, এসি, ফুলের টবে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন, গৃহ আঙিনা ও এর আশপাশে পরিত্যক্ত ডাবের খোসা, ক্যান, টায়ার, টিউব ইত্যাদিতে জমে থাকা পানি অপসারণ, ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক টিভিসি সম্প্রচার, গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ইত্যাদি করা হয়েছে।

পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, কীটতত্ত্ববিদ, চিকিৎসক, ছাত্র, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

৩ বছরে ১টি পার্কও সৌন্দর্য পায়নি

জলসবুজে ঢাকা এমন অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন মেয়র সাঈদ খোকন। সেই মাফিক অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। তবে বাস্তবে এখনো তা দৃশ্যমান হয়নি।

এ বিষয়ে মেয়র বলেন, আধুনিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য এবং বিনোদনের জন্য ‘জলসবুজে ঢাকা’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে একটি গোস্যা পার্কসহ আন্তর্জাতিক মানের ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের এসব মাঠ ও পার্কের কয়েকটি চলতি বছরের মধ্যে এবং অবশিষ্টগুলো আগামী বছরের জুন নাগাদ সমাপ্ত হবে বলে আশা করছি।

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে উদ্যোগ নেই, তবুও... 
নিরাপদে সড়ক পারাপারের লক্ষ্যে কেস প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৯টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে উদ্বোধন করা হয়েছে। মেগা প্রকল্পের আওতায় নতুন ৭টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান ১৬টি ফুটওভার ব্রিজের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান সাঈদ খোকন।

যানজট নিরসন

মেগা প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩০টি বাস-বে/বাস স্টপেজ কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩টির কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া ৪টি ইন্টারসেকশন উন্নয়নসহ ৭১টি স্বচ্ছ পুলিশ বক্স নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি পুলিশ বক্সের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ৫টি উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণের ৮টি এলাকায় ৫৬০টি স্থানে অনস্ট্রিট পার্কিং চালু করা হয়েছে।

পাবলিক টয়লেট নির্মাণ

নাগরিকদের ব্যবহারের জন্য এ পর্যন্ত অত্যাধুনিক ১৯টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আরও ৪৭টির মধ্যে ১৫টির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার পথে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয়ের ঘাটতি

শান্তিনগরকে ঢাকার দুঃখ একসময় বলা হতো। সেখানে এখন আর জলাবদ্ধতা নেই। এর জন্য অনেক দিকে নজর রেখে কাজ করতে হয়েছে বলে জানান মেয়র খোকন।

তিনি বলেন, বক্সকালভার্ট ও খালে পানি চলাচল নিশ্চিত করা না গেলে জলাবদ্ধতা থাকবে। শহরের নিম্নাঞ্চল বালু দিয়ে জমি ব্যবসায়ীরা ভরাট করেছে। এখন আর পানি চলাচল করে না।

জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল উদ্ধারের কিছু কাজের তথ্য তুলে ধরেন মেয়র। তিনি জানান, মান্ডা খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা জেলা প্রশাসন ওয়াসার সাথে সমন্বয় করে অন্যান্য খাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া ডিএসসিসির অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ১২০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাঈদ খোকন বলেন, নগরবাসীর নাগরিক জীবনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে কর্পোরেশনের কার্যক্রমে আপনাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। আপনারা আমাদের সাথে থাকুন, পাশে থাকুন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

এফবি/এএল/ 

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad