বিদেশি কুকুরের লোভ দেখিয়ে অপহরণ করা হয় সায়ানকে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ১১ বৈশাখ ১৪২৫

বিদেশি কুকুরের লোভ দেখিয়ে অপহরণ করা হয় সায়ানকে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

print
বিদেশি কুকুরের লোভ দেখিয়ে অপহরণ করা হয় সায়ানকে

এগারো বছরের শিশু সায়ান। পল্লবী এলাকার এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউটের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ছোট্ট সায়ানের বিদেশি কুকুরের প্রতি বেশ আকর্ষণ ছিল। কিন্তু তার পরিবার অপছন্দ করায় সে কুকুর পালতে পারতো না। কুকুরের প্রতি সায়ানের দুর্বলতা জানার পর তাকে বিদেশি কুকুরের লোভ দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। 

পরে সায়ানের বাবা সাইদুর রহমান ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অপহরণকারীদের কাছ থেকে ছেলেকে মুক্ত করে আনেন।

বিষয়টি জানার পর তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-৪। সোমবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপহরণের ২০ দিন পর মুক্তিপণের ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকাসহ অপহরণকারী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সায়ানের চাচার অফিসের কর্মচারী নাদিম হোসেন (১৯), মো. নাইম হাওলাদার (২২), মো. আসিফ (১৯) ও মো. সজীব খান (২০)।

তাদের কাছ থেকে তিনটি দামী ফোনসহ অপহরণে ব্যবহৃত একটি বাইসাইকেল জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৪) সিও খন্দকার লুৎফর কবির এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রতিদিন বিকেলে সায়ান বাইসাইকেল নিয়ে বাসার সামনে খেলতে যেতো এবং সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে আসতো। কিন্তু ২৭ মার্চ সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সায়ান বাসায় না ফেরায় গৃহশিক্ষক পড়াতে এলে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে সায়ানের বাবা সাইদুর রহমানের মোবাইল ফোনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মোবাইল থেকে কল আসে। 

ওই কলে জানানো হয় সায়ানকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত অবস্থায় পেতে হলে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পরে সায়ানের চাচা মো. হাবিবুর রহমান রুপনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর র‍্যাব-৪ অপহরণকারী চক্রটিকে গ্রেফতার করতে জোর তৎপরতা চালায়। 

কিন্তু একপর্যায়ে সায়ানের বাবা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে র‍্যাবকে না জানিয়েই ২৮ মার্চ ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজের সামনের রাস্তা থেকে সায়ানকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন। পরে র‍্যাব-৪ তদন্তের এক পর্যায়ে গত ১৬ এপ্রিল পল্লবী থেকে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা নাদিমকে গ্রেফতার করে। 

নাদিমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে আগে সায়ানের চাচার অফিসে অফিস বয় হিসেবে চাকরি করতো। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারী চক্রের অন্য তিন সদস্য আসিফ, সজীব ও নাইমকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব-৪ এর সিও খন্দকার লুৎফর কবির আরও বলেন, অপহরণকারী চক্রের চার সদস্য খুব সহজে বড়লোক হওয়ার লক্ষ্যে এ কাজ করে। তারা সায়ানের পরিবার সম্পর্কে আগে থেকেই জানতো। তাই তারা কুকুরের প্রতি দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে  সায়ানকে খেলার মাঠ থেকে অপহরণ করে। 

পিএসএস/এএল 

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad