রূপাঞ্জনা-অরিন্দম বিতর্ক!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

রূপাঞ্জনা-অরিন্দম বিতর্ক!

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

রূপাঞ্জনা-অরিন্দম বিতর্ক!

বাংলা বিনোদন জগতে সম্প্রতি যে ঘটনাটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তা হলো রূপাঞ্জনা মিত্রের আনা একটি অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে একটি সিনেমা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় যে রূপাঞ্জনা মিত্র দুবছর আগে স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘ভূমিকন্যা’-য় কাজ করার সময় তিনি প্রযোজকের থেকে এমন কিছু ইঙ্গিত ও আচরণ পেয়েছিলেন যা তা যে কোনো নারীর পক্ষেই অসম্মানজনক।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রূপাঞ্জনার বলেন, ‘ভূমিকন্যা’-র আগে অরিন্দমের পরিচালনায় বা প্রযোজনায় তিনি কোনো কাজ করেননি। ‘ভূমিকন্যা’তে প্রথমে তাকে নেতির চরিত্রে কাস্টিং করা হয়। পরে চ্যানেলের পক্ষ থেকেই তাকে সনকার চরিত্রে চূড়ান্ত করা হয় কারণ তার আগে এই চ্যানেলেরই ধারাবাহিক ‘বেহুলা’-তে তিনি সনকার চরিত্রেই অভিনয় করেছিলেন।

এই চরিত্রে কাস্টিংয়ের পরে তিনি অত্যন্ত উৎসাহিত ছিলেন এবং সেই কারণেই যখন প্রযোজক তাকে তার অফিসে দেখা করতে বলেন, তখন পেশাগত প্রোটোকল মেনে তিনি সেখানে যান। কারণ একজন প্রযোজক বা পরিচালক যদি কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে শুটিং শুরু হওয়ার আগে তার অফিসে দেখা করতে বলেন, তবে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অবশ্যই দেখা করেন।

রূপাঞ্জনার যাওয়ার আগে জানতেন না অফিসে আর কেউ নেই।

আমি বলেছিলাম ৬টা নাগাদ যাব। উনি আমাকে বলেছিলেন আরো একটু আগে যাওয়ার জন্য  আমি জানতাম না সেই সময় অফিস ফাঁকা থাকবে। যাওয়ার পরে আমি দেখলাম অরিন্দম শীল তার কেবিনে একাই বসে আছেন। পরে দেখলাম একজন বেয়ারা রয়েছেন। তাকে কিছু একটা কাজে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে উনি আমার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।

রূপাঞ্জনা বলেন,  আমি আসার পরে উনি আমাকে প্রথমেই আলিঙ্গন করেছিলেন। সেই আলিঙ্গনে যে কদর্য ইঙ্গিত ছিল, সেটা আমার অত্যন্ত আত্মসম্মানে লাগে। তার কেবিনে অতিথিদের বসার জন্য একটি রিভলভিং চেয়ার রয়েছে। আমি সেখানে বসেছিলাম। উনি টেবিল থেকে উঠে আমার মাথায় এবং পিঠে অদ্ভুতভাবে হাত রাখেন। আমি তো একজন মা, আমি আমার বাচ্চাকে গুড টাচ-ব্যাড টাচ শেখাই। কাজেই কোন টাচের কী মানে, সেটা বোঝা যায়। এর পরে উনি পাশের কাউচে বসেন এবং বলেন ইউ কাম অ্যান্ড সিট বিসাইড মি। আমি যাইনি। আমি ওই চেয়ারেই বসেছিলাম। আমি যে উঠে যাব না তার পাশে, সেটা উনি বুঝতে পেরেছিলেন। তার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই তার স্ত্রী সেখানে আসেন। এবং অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকান। গোটা ব্যাপারটা আমার কাছে খুবই অস্বস্তিকর।

রূপাঞ্জনা কেনো দুবছর পরে ঘটনাটির কথা তুললেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অরিন্দম শীল। এর উত্তরে অভিনেত্রী ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে বলেন, প্রত্যেকটা মানুষের ভিতর থেকে একটা ডাক আসে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে। আমি সেই সময় চুপ করে ছিলাম বলে সব সময়েই চুপ করে থাকব সেটা তো নয়। আর আমি তো আগেই বলেছি যে আমি চ্যানেলের কনট্র্যাক্টে ছিলাম, আমি চাইনি এই বিষয়ে চ্যানেল কোনোভাবে জড়িয়ে যাক। এখন আমি আর কনট্র্যাক্টে নেই, তাই এখন কথাটা প্রকাশ করেছি। আমাকে অনেকেই টেক্সট করেছেন, ফোন করেছেন। তারা বলেছেন, আমরা যেটা পারিনি সেটা তুই করে দেখিয়েছিস। এই ধরনের প্র্যাকটিসগুলো তো এই ফিল্ডে অনেকদিন ধরে রয়েছে।

অন্যদিকে অরিন্দম বলেন, তিনি রূপাঞ্জনার আনা অভিযোগে অত্যন্ত আহত হয়েছেন কারণ তিনি কখনো কোনো নারীকে অসম্মান করেননি। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে অরিন্দম বলেছেন রূপাঞ্জনার এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিচালক-প্রযোজকের বক্তব্য, তিনি এমন কোনো কথা বলেননি। এই সংবাদমাধ্যমটি তার কথার ভুল ব্যাখ্যা করেছে এবং তার জবানিতে ভুলভাবে কথাটি উপস্থাপিত হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা-কে অরিন্দম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা রূপাঞ্জনার অভিযোগ হলো যেহেতু তিনি ওইদিন পরিচালকের মনোরঞ্জন করেননি, তাই পরিচালক গল্প ঘুরিয়ে দেন এবং তার চরিত্রটির যতটা প্রাধান্য পাওয়ার কথা ছিল, ততটা দেওয়া হয়নি। প্রচারের পোস্টার থেকেও তার ছবি বাদ দেওয়া হয়।

এই অভিযোগগুলির প্রসঙ্গে অরিন্দম বলেন, প্রথমত রূপাঞ্জনার সঙ্গে কনট্র্যাক্ট ছিলো চ্যানেলের। আমার সঙ্গে কোনো রকম শর্ত ছিলো না। তাই প্রযোজক হিসেবে আমার মনোরঞ্জন করতে হবে এমন কোনো জায়গাই ছিল না। এর পরে তার যা যা অভিযোগ যে গল্প ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা তাকে ঠিকমতো ব্যবহার করা হয়নি, সেই সব অভিযোগের উত্তর আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এগুলো চ্যানেলের কেউ বলতে পারবেন। বরং আমি সেই সময়  ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম যে ‘ভূমিকন্যা’-তে কি হয়েছে সেই দিকে খুব একটা নজর দিতে পারিনি। সেই কারণে এত বড় লস হয় আমাদের। আর রূপাঞ্জনা তো ভালো কাজ করছিলো, আমিও চেয়েছিলাম যে ও কাজ করুক। ও খুবই ভালো অভিনেত্রী।

অভিনেত্রীর সাথে ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ, তাকে শারীরিকভাবে স্পর্শ করার বিষয়ে তিনি বলেন, যদি সত্যিই সেদিন আমি তাকে অসম্মান করেই থাকি, তবে সে আমার অফিস থেকে বেরিয়ে কেনো টেক্সট করল? কেনো আমাকে বলো যে  সে চায় আমি তাকে গাইড করি। আমি কি তাকে ফোর্স করেছিলাম?  এর পরে আমার বার্থডে পার্টিতে ইউনিটের দেওয়া একটা সারপ্রাইজ পার্টি ছিল। সেখানে আসতে কি কেউ তাকে জোর করেছিল? তার যদি এতটাই খারাপ লেগে থাকে তাহলে আমার সঙ্গে কোনো কমিউনিকেশন না রাখতে পারতো।

অরিন্দম কথার পরিপ্রেক্ষিতে রূপাঞ্জনা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে বলেন, তিনি টেক্সট করেছিলেন, ওয়ার্কশপ করার কথা ছিলো। জন্মদিনে যাওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, আমি একা তো যাইনি। ‘ভূমিকন্যা’ ইউনিটের সবাই সেদিন গিয়েছিল। তাদের সঙ্গে আমি গিয়েছিলাম পেশাগত জায়গা থেকে। পেশাগত কিছু দায়িত্ব থাকে, আমি সেগুলো সব সময়েই মাথায় রাখি। আর উনি এক জায়গায় বলেছেন আমি নাকি তার বন্ধু ছিলাম। আমি এটা স্পষ্ট করে দিই, আমি কোনওদিনই তার বন্ধু ছিলাম না। উনি শুধুই আমার কলিগ।

অর্থাৎ দুই পক্ষই তাদের নিজের নিজের বক্তব্যে অনড় রয়েছেন। রূপাঞ্জনা বলছেন, তিনি অসম্মানিত বোধ করেছেন পরিচালকের হাবভাব, তার আলিঙ্গন, আকস্মিক স্পর্শ ও কাউচে পাশে এসে বসার অনুরোধে। পরিচালক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনা পরবর্তী পদক্ষেপে হবে এই বিষয়ে টলিপাড়া ভক্তদের মধ্যে চলছে জোর গুঞ্জন।

এসকে

 

তারায় তারায়: আরও পড়ুন

আরও