স্বজনহারাদের কান্না থামেনি এখনও

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

স্বজনহারাদের কান্না থামেনি এখনও

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা ১০:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

print
স্বজনহারাদের কান্না থামেনি এখনও

হঠাৎ কইরা দেহি জল উডন শুরু করছে। ঘর ভাইঙ্গা আমরা দুই মাইয়ারে লইয়া চাপা পড়লাম। আশপাশের মানুষ আমগোরে বাচাইয়া কোনো মতে সেন্টারো নিছে। কিন্তু হের আগেই আমার মাইয়াডা মইরা গেছে। আইজ মাইয়াডা কত ডাঙ্গও থাকত। এমন কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পরের ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কূলগাজী গ্রামের জেলে মোস্তফা মাঝির স্ত্রী রোশনা বেগম। সিডরে তার দুই বছরের শিশু কন্যা রোজিনাকে হারিয়েছেন। মেয়ে হারানোর স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি। মেয়ের জন্য কাঁদতে কাঁদতে দিন কাটে তার।

.

শুধু রোশনা বেগমই নয়, তার মত বহু পরিবার এখনো কান্নাকে সঙ্গী করেই দিন কাটাচ্ছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও স্বজনরা এখনও অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। যারা বেঁচে আছেন তারাও আতঙ্কে আছেন আগামীতে ঝড় এলে কিভাবে তা মোকাবেলা করবেন।

আজ ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ভোলাসহ উপকূলীয় জেলা গুলোর উপর দিয়ে বয়ে যায় সুপার সাইক্লোন সিডর। সিডরের আঘাতে ভোলা সদর উপজেলাসহ চরফ্যাশন, মনপুরা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৪২ জন মারা যায়। আহত হয় সহস্রাধিক মানুষ। ৫২ হাজার ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেড়িবাঁধ ভেঙে যায় ৫ কিলোমিটার এলাকার। নিখোঁজ হয় ১৫ জেলে। ১০ বছরেও তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের কান্না থামেনি। কাটেনি ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক।

সিডরের আঘাতে ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্র প্রসাদ, কুল গাজী ও গাছালীমোড় এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব গ্রামের স্বজনহারা পরিবারের মানুষগুলো এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। দিনটির কথা মনে পড়লে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা।

কুল গাজী গ্রামের সহিজল মাঝি সিডরে আঘাত হানার সময় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সাগরে। তিন মেয়ে তিন ছেলে, মা-বাবা আর স্ত্রী রেখে সেই যে গেলেন আর ফিরে এলেন না। আসবেন কিনা তাও জানে না তার পরিবার। এখনও তার ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সহিজলের স্ত্রী। স্বামীর কথা বলতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

একই গ্রামের কাদির গাছালির মেয়ে জামাই মিলন মাঝিও মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ হারালেন। তার স্ত্রী-সন্তানরা সবাই এখন ছন্নছাড়া। সিডরে কেউ বাবা-মা, কেউ সন্তান, কেউবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কোনও রকমে বেঁচে আছেন। এসব এলাকায় এখনও চলছে শোকের মাতম। সন্তান হারানো ব্যথা ভুলতে পারছেন না তারা।

আবার নিঃস্ব অনেক পরিবার বেড়িবাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও আতঙ্ক কাটেনি তাদের। ভয়ঙ্কর সেই স্মৃতি তাড়া করে ফিরছে।

এএম/এসএফ

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad