নানা আয়োজনে ঝালকাঠি পাকহানাদার মুক্ত দিবস পালিত

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০ | ১১ মাঘ ১৪২৬

নানা আয়োজনে ঝালকাঠি পাকহানাদার মুক্ত দিবস পালিত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ৩:০৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

নানা আয়োজনে ঝালকাঠি পাকহানাদার মুক্ত দিবস পালিত

ঝালকাঠি পাকহানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা পাকহানাদার মুক্ত হয়। একদিকে পাকবাহিনীদের রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে, অন্যদিকে দলে দলে গ্রামবাংলার মানুষ রাস্তায় নেমে জয় বাংলার স্লোগান দেন।মুক্তির সাদ পায় ঝালকাঠিবাসী।

মুক্ত দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠিতে নানা কর্মসূচি পালন করে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। মুক্তিযোদ্ধা, সন্তান কমান্ড, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার দুলাল সাহা ও মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ইমাম পাশা।

মুক্তিযোদ্ধারা জানায়, ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল পাকবাহিনী ঝালকাঠি আক্রমন করে শহরের দখল নিয়ে ‘দ্বিতীয় কোলকাতাখ্যাত’ দেশের বৃহত্তম এ বাণিজ্য বন্দরে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুড়ে ছাই হয়ে যায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও বাড়িঘর। এরপর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজাকার, আলবদর, আলসামস বাহিনীর সহায়তায় নির্বিচারে গণহত্যা, লুট-পাট, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয় নিরিহ মানুষের ওপর।

৭ ডিসেম্বর বিকেলে পাক বাহিনী ঝালকাঠির উত্তর অঞ্চলে অভিযান শেষে নৌপথে বরিশাল ফেরার সময় ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি চরে ২৭-২৮ জনের একটি রাজাকারের দল নামিয়ে দিয়ে যায়। এসময় মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনতা তাদের ঘেরাও দিয়ে মারধর করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সোপর্দ করে।

মুক্তিযোদ্ধারা ঝালকাঠি থানা ঘেরাও করলে ওসিসহ সকল পুলিশ সদস্য মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে। মুক্ত হয় ঝালকাঠি। একই দিন পাকহানাদার মুক্ত হয় নলছিটি।

জেআইজে/জেডএস

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও