অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর অভিযোগ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫ মাঘ ১৪২৬

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর অভিযোগ

পিরোজপুর প্রতিনিধি ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর অভিযোগ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান শিকদারের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ তৎপরতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার আপন প্রবাসী ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তানরা। বুধবার সকালে ইন্দুরকানী উপজেলার ভবানিপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে প্রবাসী নুরুন্নবী শিকদারের স্ত্রী সালমা আক্তার এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তার ভাশুর অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান শিকদারের বিরুদ্ধে বসত-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে জমি ভোগদখলের পায়তারার বিষয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। এসময় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাজে জীবনের নিরাপত্তা চান। সংবাদ সম্মেলনে তার দুটি শিশু সন্তান তনিমা (১৪) ও নুহা (৩) উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীর ভিটায় সন্তানদের নিয়ে প্রায় ১৫ বছর যাবত বসবাস করে আসছি। আমার স্বামী জীবিকার তাগিদে প্রবাসে চাকুরি করছে। যখন আমার শ্বশুরের ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হয় তখন এই জমি এক প্রকার পরিত্যাক্ত অবস্থায় ছিল।

জমিটি নিচু হওয়ায় জমিতে পানি জমে থাকতো। কিন্তু পরে ওই জমিতে মাটি ভরাট করে আমরা উচু করি। এখন এই জমির পাশ দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ হওয়ার পর জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চোখ পড়ে ভাশুরের।

রাস্তা নির্মাণের পর থেকে আমার ভাশুর আমাদের ভিটা ছাড়া করার জন্য উঠে পরে লাগে। আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় তার ছোট ভাই আলামিন শিকদারকে সাথে নিয়ে শুরু করে নানা রকম ষড়যন্ত্র। আমি রাস্তার পাশের ওই জমিতে দোকান নির্মাণ করতে গেলে আমার বিরুদ্ধে ইন্দুরকানী থানায় অভিযোগ করে মনিরুজ্জান শিকদার।

কিন্তু সরেজমিনে পুলিশ এসে তাদের অভিযোগের সতত্যা না পেয়ে  মনিরুজ্জামান শিকদার ও আল আমিন শিকদারকে তাদের অবৈধ হস্তক্ষেপের বিষয়ে নিষেধ করেন। থানা পুলিশ থেকে কিছু করতে ব্যর্থ হয়ে আমার ভাশুর অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামন শিকদার কিছু দিন পূর্বে রাতের আধারে ভাড়াটিয়া লোক এনে আমাকে ভয়-ভীতি দেখায় ও জীবন নাশের হুমকি দেন।

এছাড়া অধ্যক্ষ নিজে আমাকে মারতে আসে এবং তার ছোট ভাই আল আমিন শিকদার কয়েকদিন পূর্বে আমাকে মারধর করে। আমি ও আমার ছোট দুটি সন্তান নিয়ে নিরুপায় হয়ে অধ্যক্ষের এসব কর্মকাণ্ড এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের জানাই। এসব বিষয় অধ্যক্ষের ভয়ে থানা পুলিশের দারস্থ হতে সাহস পাচ্ছি না। আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় আমি এখন অবুঝ শিশুদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।

তিনি আরও জানান, উপজেলার ১০২ নং ভবানিপুর মৌজায় ৪.৫ শতক জমিতে আমার একটি বসত ঘর রয়েছে। যাহার বিএস খতিয়ান ৬৭০/৬৫৫/৯১৫, বিএস দাগ ১৫৫২/১৫২৭।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানের কাছে মুঠোফেনে জানতে চাইলে তিনি ফোনে কথা বলতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। সরাসরি দেখা করে বিস্তারিত শোনার কথা বলেন তিনি।

জেআইএল/জেডএস

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও