বরিশালে অপহৃত যুবকের লাশ উদ্ধার

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

বরিশালে অপহৃত যুবকের লাশ উদ্ধার

বরিশাল ব্যুরো ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

print
বরিশালে অপহৃত যুবকের লাশ উদ্ধার

বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের চরআলিমাবাদ এলাকার রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে হামলার পর অপহৃত যুবক আবুল বাশার ওরফে প্রিন্স সিকদারের (৩২) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল সোমবার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গত রবিবার সন্ধ্যায় আড়িয়াল খাঁ নদীর কাচিরচর-সাহেবেরচর নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে প্রিন্স সিকদারের লাশ উদ্ধার করে মুলাদী থানার পুলিশ। নিহত প্রিন্স উপজেলার সাহেবেরচর গ্রামের নেছার উদ্দিন সিকদারের ছেলে।

নিহতের বাবা নেছার উদ্দিন সিকদার জানান, গত শুক্রবার রাতে বাটামারা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালাম হাওলাদার এবং চুন্নু হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন তাদের ফসলি জমির মধ্যদিয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে তিনি ও তার পুত্র আবুল বাশার প্রিন্সসহ আরো ৩ স্বজন ফসলি জমিতে রাস্তা নির্মাণে বাঁধা প্রদান করেন। এসময় বাটামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামের উপস্থিতিতে ইউপি সদস্য কালাম ও চুন্নু মসজিদের মাইকে ডাকাত ঢুকছে প্রচার করে। এরপর গ্রামবাসী জড়ো হলে; তাদের মারধর করে এবং প্রকাশ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে হামলাকারীরা আবুল কালাম প্রিন্সকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রিন্স সিকদারের পিতা নেছার সিকদার বাদি হয়ে শনিবার মুলাদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রবিবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় এবং সন্ধ্যায় অপহৃত প্রিন্স তালুকদারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি অভিযোগ করেন, বাটামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামের উপস্থিতিতে হামলাকারীরা তার পুত্র প্রিন্স সিকদারকে অপহরণ করে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য নদীতে ফেলে দিয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাটামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শীদুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অবান্তর। বরংচ বিষয়টি নিয়ে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। ঘটনার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এর আগে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালাম তালুকদার লোকজন দিয়ে পরিষদের একটি বড় প্রকল্পের দিনে-রাতে কাজ করছিলো। সেখানে নিহত আবুল বাশার প্রিন্সের বাবা নেছার উদ্দিন সিকদার লোকজন নিয়ে, তার জমি থেকে মাটি না কাটার জন্য বলেন। এসময় তাদের সাথে স্থানীয়দের বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে হামলার স্বীকার হন। এরপর তারা হামলা থেকে বাচঁতে নদী পাড় হয়ে চলে যায়। তবে এদের মধ্যে ভিকটিম নদীতে ডুবে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন এই চেয়ারম্যান।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবুল কালাম হাওলাদারকে জানতে মোবাইলে বারবার চেষ্টা করলেও; তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মুলাদী থানার ওসি (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা প্রিন্স সিকদারকে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য নদীতে ফেলে দিয়েছিল। লাশের ময়নাতদন্তে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জেইউ/আরজি

 
.




আলোচিত সংবাদ