ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

সুমন সিকদার, বরগুনা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮

print
ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

ব্যস্ততম ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীতে প্রতিদিন সহস্রাধীক যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কাছে চাঁদা নেয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বরগুনা জেলা বাস মালিক ও শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। 

পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ সাগরকন্যা খ্যাত পর্যটন এলাকা কুয়াকাটায় যাওয়ার একমাত্র পথ ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক। সড়কটিতে দিনে গড়ে সহস্রাধীক গণ ও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করে। এই সড়কের আমতলী এলাকায় অবৈধ টোল ঘর বসিয়ে রশিদের মাধ্যমে চাঁদা তুলছে বরগুনা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়ন নামের একটি সংগঠন (যার রেজি: নং খুলনা-২২৪২)।

বরগুনা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা কিসলু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বরগুনা জেলায় একটি শ্রমিক সংগঠন থাকার পরেও বরগুনা আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নামে আরেকটি সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী এলাকার এ. কে. স্কুল, বটতলা, চৌরাস্তা ও হাসপাতাল সড়কে প্রতিদিন সহস্রাধীক গাড়ি থেকে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে।

এবিষয়ে বরগুনা জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাহাবুদ্দীন সাবু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, একটি অবৈধ শ্রমিক সংগঠন যার কোন ভিত্তি নেই যেখানে কোনো শ্রমিক নেই তবুও তারা ক্ষমতার দাপটে মহাসড়কে চাঁদাবাজি করছে। এরকম চলতে থাকলে আমরা বরগুনা জেলা বাস মালিক সমন্বয় পরিষদ বরিশাল সমিতির সাথে আলাপ আলোচনা করে পুরো দক্ষিণাঞ্চলে বাস ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য হব। 

নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই মহাসড়কে নিয়মিত চাঁদা তোলা অব্যাহত থাকায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত সংগঠনটি চাঁদাবাজি বন্ধ না করা হলে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন বরগুনা জেলা ট্রাক মালিক ও শ্রমিক নেতারা।

 বরগুনা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাহতাব হোসেন মোল্লা, আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি মো. শাহ আলম, আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আহাদ সোহাগ জানান, অতিদ্রুত ব্যস্ততম ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সেই সাথে পুরো বরিশাল বিভাগে বাস ধর্মঘট আহ্বান করা হবে বলেও তারা জানান।

চাঁদা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টোল ঘর বসিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদা নেয়ার দৃশ্য। এরপরই সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়তে শুরু করেন চাঁদা আদায়কারীরা। যাদেরকে পাওয়া গেল তারা কেউই কথা বলতে রাজি হয়নি।

অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলনকারী সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বরগুনা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ বলেন, সবাইকে ম্যানেজ করেই আমরা এখানে চাঁদা তুলছি।

তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমরা এ টাকা খরচ করি, আঞ্চলিক কমিটিকে চাঁদা দিতে হয়, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ম্যানেজ করতে হয় তারপর যা থাকে সেটা আমরা ভাগাভাগি করে খাই।

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বিপিএম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ব্যস্ততম ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে চাঁদাবাজি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আমরা সংশ্লিষ্ট সংগঠনটিকে ডেকে ইতোমধ্যে কথা বলেছি তারা চাঁদাবাজি বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন। তারপর তারা যদি চাঁদাবাজি করতে থাকে তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, দ্রুত চাঁদাবাজি বন্ধে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আশা করছি শিগগির চাঁদাবাজি বন্ধ হবে।

এসএস/এসবি

 
.




আলোচিত সংবাদ