ব্যাংকিং-আর্থিক খাতে অভূতপূর্ব অরাজকতায় উদ্বিগ্ন টিআইবি

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০ মাঘ ১৪২৪

ব্যাংকিং-আর্থিক খাতে অভূতপূর্ব অরাজকতায় উদ্বিগ্ন টিআইবি

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭

print
ব্যাংকিং-আর্থিক খাতে অভূতপূর্ব অরাজকতায় উদ্বিগ্ন টিআইবি

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে অভূতপূর্ব অরাজকতা ও ঝুঁকির প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংকট অবসানে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন এবং নীতিমালা প্রণয়নেরও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে চলমান সংকট নিরসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিরসন পরিকল্পনাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ছাড়া সরকার ও বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বিকল্প নেই।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগসাজশের মাধ্যমে লাগামহীন জালিয়াতি, দুর্নীতি ও ঋণ খেলাপির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ রোধে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের একাংশ শুধু এডহক ভিত্তিক পদক্ষেপে লিপ্ত থাকেনি, বরং মূল সমস্যা উপেক্ষা করে অপরিণামদর্শীতা ও দৃশ্যমান অসহায়ত্বের মাধ্যমে অভূতপূর্ব অরাজকতা ও আস্থার সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।’

ড. জামান আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খাতের পাশাপাশি বহুল-বিতর্কিত ফারমার্স ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকের মতো ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকে সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি কিছ পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও অনিয়মের অন্তর্নিহিত সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় অনিয়ম লাগামহীন হয়েছে।’

‘একইসঙ্গে আমানতকারীসহ দেশবাসীর মাঝে দুশ্চিন্তা ও আস্থার সংকট বেড়েই চলেছে, যেমন বেড়ে চলেছে জালিয়াতি, দুর্নীতি ও ঋণ খেলাপির মত অনিয়মের কারণে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া ক্রমবর্ধমান বোঝা’ যোগ করেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি কোম্পানি আইন সংশোধন করে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে অনিয়ন্ত্রিত ও জবাবদিহিহীন পরিবারতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

টিআইবি মনে করে, অবৈধ উপায়ে ত্বরিত মুনাফা ও সম্পদলোভী স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও চক্রকে চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করতে পারলে এ খাতে আইন অমান্য করার চলমান বেপরোয়া ধারা রোধ করা যাবে না।

বিবৃতিতে ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দক্ষতা, সক্ষমতা, কর্ম-পরিধি বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন নিশ্চিতের ওপর টিআইবি গুরুত্ব প্রদান করেছে।

এছাড়া নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানসমূহকে যেন কোনো প্রকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে না হয় ও ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সৎসাহস থাকতে হবে বলে মনে করে টিআইবি।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় আইনি ও নীতিকাঠামো এবং পরিবীক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এডহক ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবারতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ সহায়ক সংশোধিত আইনি ধারা বাতিল করতে হবে।

এমএসআই

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad