এনআরবি ব্যাংকে অনিয়মে দায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক!

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫

এনআরবি ব্যাংকে অনিয়মে দায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:০৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭

print
এনআরবি ব্যাংকে অনিয়মে দায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক!

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সমালোচনা করে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান তমাল এসএম পারভেজ বলেছেন, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যাংলাদেশ ব্যাংক যে গাইডলাইন দিয়েছে, সেখানে ত্রুটি ছিল। সেখানে সমস্যা আছে। নীতিমালার দুর্বলতার কারণেই নুতন এই ব্যাংকটিতে অনিয়ম হয়েছে।

সোমবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের পাঁচ সদ‌স্য বাংলা‌দেশ ব্যাং‌কের ডেপু‌টি গভর্ন‌রদের স‌ঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

নবনিযুক্ত এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, আমি বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। আমার অর্থ যদি সরকারি চ্যানেলে বিদেশ থেকে আসে তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক কেন এ অর্থের উৎস জানতে চায়। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন্সের অভাব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এনআরবি ব্যাংক করল। তখন এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এনআরবি বা প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু এখানে এনআরবিদের জন্য আলাদা কোনো নীতিমালা নেই। সাধারণ ব্যাংক আর এনআরবি ব্যাংক একই নিয়মে চলছে। আর যেসব অনিয়ম হয়েছে তা গাইডলাইন না থাকার কারণেই হয়েছে। গাইডলাইনে সুযোগ থাকলে অনিয়ম হবেই। তারপরও ব্যাংকটি বর্তমানে ২০০ কোটি টাকা লাভে আছে।

তমাল এসএম পারভেজ বলেন, ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন যারা ব্যাংকটির নেতৃত্ব নিয়েছেন তারা সবাই বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের কাছে এখনো ব্যাংকের পুরো আর্থিক বিবরণী আসেনি। আমরা সব কিছু জেনে আগামীতে  ১০- ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত জানাবো। ব্যাংক কাজ করে জনস্বার্থকে নিয়ে। জনগণের আমানত এখানে আছে। আমরা মনে করি জনগণের আমানতে একটা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। আমাদের ব্যাংকের কিছু করপোরেট গভর্নেন্সের সমস্যা ছিল। কিছু কম্পাইন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা যারা বিদেশে থেকে অর্থ উপার্জন করি। তারা এখানে বিনিয়োগ করেছি। তাই আমাদের নিজস্ব একটি দায়িত্ববোধ আছে। আমানতকারী যাতে কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে। সব ঝুঁকি আমারা কাঁধে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব।

তিনি বলেন, ব্যাংকের যেসব অনিয়ম ছিল তা দূর করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের সঙ্গে আছে। এনআরবি ব্যাংক যে জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেই লক্ষ্যে কাজ করবো। প্রবাসীদের জন্য আমরা আলাদা পণ্য আনবো। আগের সব অনিয়ম পরিবর্তন করা হবে।

ব্যাংকের পর্ষদের সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, করপোরেট গভর্নেন্সের ও কম্পাইন্ডের অভাব ছিল। ব্যাংকে কি হচ্ছে তা সবসময় বোর্ডে আসতো না। এটাই একমাত্র সমস্যা। বোর্ড ব্যাংকের সার্বিক চিত্র জানতো না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যে ব্যাংকের সমস্যা হচ্ছে তা বোর্ড জানাতো না। এসব সমস্যা এখন বোর্ডে আসবে।

আগের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার ব্যর্থতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। আমি দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যর্থ হলে আমিও দায়িত্ব ছেড়ে দেবো।

এর আগে ১০ ডিসেম্বর রোববার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী পদত্যাগ করেন। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন তমাল এসএম পারভেজ। সভায় বাধ্যতামূলক তিন মাসের ছুটিতে পাঠানো হয় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেওয়ান মুজিবর রহমানকে। পরিচালনা পর্ষদের অন্য কমিটির প্রধানরাও পদত্যাগ করেন।

সভায় পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে তৌফিক রহমান চৌধুরী পদত্যাগ করলে ওই পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ শহীদ ইসলাম। নির্বাহী কমিটির (ইসি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবু বকর চৌধুরী। ওই পদে ছিলেন মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম। নুরুন্নবী অডিট কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করায় সেখানে নির্বাচিত হয়েছেন রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু। এছাড়া রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন আদনান ইমাম। ওই পদে ছিলেন সৈয়দ মুন্সেফ আলী। এমডি দেওয়ান মুজিবুর রহমানের ছুটি কার্যকর হলে সেখানে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাজী মো. তালহা।

এফএ/এএল

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad