৭২% ব্যাংকার মনে করেন, এত ব্যাংকের দরকার নেই

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

৭২% ব্যাংকার মনে করেন, এত ব্যাংকের দরকার নেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
৭২% ব্যাংকার মনে করেন, এত ব্যাংকের দরকার নেই

দেশের ৭২ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করেন, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ব্যাংক রয়েছে, তা কমানো দরকার। বিপরীতে তবে ১১ শতাংশ ব্যাংকারের মতে, এখন ব্যাংকের সংখ্যা যা আছে, তা ঠিকই আছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘এক্সপ্লোরিং মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন ইন দ্য কনটেক্স অব দ্য ব্যাংকিং সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী।

কর্মশালায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক মার্জারের ক্ষেত্রে যে সব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম- সুশাসনের অভাব, বোর্ডের গোপন সুবিধা, রাজনৈতিক দুর্বলতা, মানসিকতার পরিবর্তন, পরিচালকদের দুর্বলতা, নেতৃত্ব ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসকে সুর চৌধুরী বলেন, ‘উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে মার্জারের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে এ ধারণা কিছুটা নতুন। তবে মার্জারের জন্য যেকোনো সময় আমরা প্রস্তুত আছি। এ বিষয়ে আমরা একটা গাইডলাইন করেছি।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘বিদেশে ব্যাপকহারে ব্যাংক মার্জার হচ্ছে। সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বড় হওয়ার জন্য মার্জার করে থাকে। তবে আমাদের দেশে ছোট ব্যাংকগুলোর ধারনা বড়দের সঙ্গে মার্জার হলে বড়রা তাদের খেয়ে ফেলবে।’

তিনি বলেন, ‘বিডিবিএলের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সেটা হলো দুটো খারাপ প্রতিষ্ঠান মিলে নতুন একটি খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে।’

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি এক্সিট পলিসি (বহির্গমন নীতি) থাকা দরকার। কোনো ব্যাংক খারাপ করলে তাকে এ নীতির মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক এবং পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘মার্জার সব সময় খারাপ হয় না। এর ইতিবাচক দিকগুলো দেখতে হবে। আমাদের গ্লোবালাইজেশনের অংশ হতে হলে মার্জারে যেতে হবে।’

বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াছিন আলি বলেন, ‘সরকার যদি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো চালাতে না পারে, তাহলে এগুলো প্রাইভেট সেক্টরে ছেড়ে দেওয়া উচিত। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আর্থিক খাতের ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধান সম্ভব।’

এফএ/আইএম

 
.




আলোচিত সংবাদ