শরণার্থী শিবির ছাড়তে অস্বীকৃতি

ঢাকা, সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯ মাঘ ১৪২৪

শরণার্থী শিবির ছাড়তে অস্বীকৃতি

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৭

print
শরণার্থী শিবির ছাড়তে অস্বীকৃতি

মানুস দ্বীপে থাকা অস্ট্রেলিয়া নৌবাহিনীর হাতে আটক অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে পাপুয়া নিউ গিনি কর্তৃপক্ষ। অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের সময় সাগর থেকে তাদের আটক করে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু এবং মানুস দ্বীপে অস্থায়ীভাবে রাখা হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি পাপুয়া নিউ গিনি’র আদালত এসব শরণার্থী শিবিরকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দেয়ায় মঙ্গলবার তা বন্ধ হতে চলেছে।

ফলে এসব শিবির দ্রুত ছাড়তে হবে আশ্রয়ে থাকা মানুষদের। কিন্তু তা মানতে নারাজ অভিবাসন প্রত্যাশীরা। তাদের দাবি, এমন সিদ্ধান্ত মানবতা বিরোধী।

যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই এসব শিবিরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে পানি এবং খাদ্য সহায়তাও বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তাতে অসংখ্য অভিবাসন প্রত্যাশীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেই আশ্রিতরা জানিয়েছেন।

তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাতে কান না দিয়ে হুঁশিয়ারী দিয়েছে, শরণার্থী শিবির ত্যাগ না করলে বুধবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে অভিযান চালাবে।

এদিকে শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয়ে থাকা মানুষেরা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’কে জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিলেন। সাহায্য বন্ধ হলেও যাতে টিকে থাকা যায় এজন্যে পানি এবং শুকনো বিস্কুট সঞ্চয় করছিলেন।

শিবির বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বৃষ্টির পানি যেসব নালা দিয়ে প্রবাহিত হয় সেখানে ঘাঁটি গেড়েছিলেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা রক্ষীরা চলে যেতেই রাতের অন্ধকারে স্থানীয়রা তাদের খাদ্য ও পানীয় লুট করে নিয়ে যায়।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্রয় শিবিরে থাকা প্রায় ৬ শ’ শরণার্থী মানুস দ্বীপ ত্যাগে আগ্রহী নয়। অস্থায়ীভাবে হলেও নিরাপত্তা কারণে তারা দ্বীপটিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে চান না।

স্থানীয়দের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত সপ্তাহেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

যেখানে বলা হয়, স্থানীয়দের দ্বারা নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। আশ্রয়ে থাকা মানুষদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করে মানবাধিকার সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায়ই অভিবাসন প্রত্যাশীদের উপর হামলা চালায় স্থানীয়রা। কখনও কখনও চাপাতি এবং পাথর নিয়েও স্থানীয়রা আক্রমণ চালায়।

অবশ্য ক্যানবেরাও চাইছে না অভিবাসন প্রত্যাশীরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করুক। তাদের মতে, অবৈধ পথে আসা বাইরের মানুষকে আশ্রয় দিলে অস্ট্রেলিয়ায় অপরাধ বাড়বে। স্থানীয়রাও চোরাচালানে জড়িয়ে পড়বে। এমনকি সাগরে মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাবে।

এমন অবস্থায় পাপুয়া নিউ গিনির আদালতও এখন বলছে, অভিবাসন প্রত্যাশীদের আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়া সরকারের। সাগরে আটক এসব মানুষকে ত্রাণ সহায়তাও দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এখন শিবিরে থাকা মানুষের কি হবে তা অস্ট্রেলিয়ার সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে।

এমন অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার তরফে বলা হয়েছে, এসব শরণার্থীদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

কেবিএ

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad