রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বাসিন্দা নয়: সেনাপ্রধান

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বাসিন্দা নয়: সেনাপ্রধান

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বাসিন্দা নয়: সেনাপ্রধান

রোহিঙ্গা মুসলিমদের (বাঙালি বলে থাকে দেশটি) আবারও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লাইং বলেছেন, বাঙালিরা মিয়ানমারের বাসিন্দা নয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা তাদের এখানে নিয়ে এসেছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলের সঙ্গে এক আলোচনায় মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইং এই মতামত ব্যক্ত করেন। খবর: আলজাজিরার।

বৃহস্পতিবার সেনপ্রধান নিজের ফেসবুকে বিষয়টি শেয়ার করেছেন। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত জেনারেল মিন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমার যা বলে আসছে, তারই প্রতিধ্বনি করলেন।

ফলে গত ২৫ আগস্টের পর থেকে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে সাড়ে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, সে বিষয়ে জেনারেল মিনের কোনো সংবেদনশীলতা নেই বলেই মনে হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ অভিহিত করে রাখাইন সমস্যার জন্য ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের দোষারোপ করেন তিনি।

ফেসবুকে জেনারেল মিন লেখেন, ‘এই বাঙালিদের মিয়ানমার কখনও আনেনি, ঔপনিবেশিকরা তাদের এখানে নিয়ে এসেছে। তারা এদেশের বাসিন্দা নয় এবং ঔপনিবেশিক সময়ের নথিপত্র ঘেটেও দেখা যায়, তাদের রোহিঙ্গা বলা হতো না।’

রাখাইন রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেন, ‘ব্রিটিশ উপনিবেশ চলাকালে ১৮২৪ সালের পর থেকে শ্রমিক হিসেবে বাঙালিরা রাখাইনে প্রবেশ শুরু করে। বুথিডং ও মংডু রেললাইন তৈরির সময় আরও বাঙালি শ্রমিক আসে। সেই বাঙালিরা সেসব অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে এবং তাদের জনসংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়তে থাকে।’

বাঙালিরা নাকি সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে থাকে এবং রাখাইনে মোট জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ হয়ে দাঁড়ায় বলে একটি রেকর্ডের কথা বলেন সেনাপ্রধান।

রাখাইনে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী সংখ্যালঘুতে পরিণত হয় এবং তাদের সংখ্যা ৫ শতাংশে নেমে আসে।

গত দেড় মাসে চলা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘শুদ্ধি অভিযান’কে যখন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র ‘গণহত্যা’ এবং ‘জাতিগত নিধন’ বলছে, সেখানে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান যেন চোখ বুঝে রয়েছেন। তার দীর্ঘ স্ট্যাটাসে বরং রোহিঙ্গাদেরই দোষারোপ করতে দেখা যায়।

কতজন রোহিঙ্গা নিহত হলেন সে বিষয়ে কিছু না বলে প্রায় ৯০ জনের বেশি হিন্দু হত্যা করা হয়েছে, ৪৫ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং ১৯২ জনের মত নিখোঁজ থাকার প্রসঙ্গ এনেছেন তিনি।

তাদের তদন্তে নাকি বের হয়ে এসেছে আরসা’র নেতৃত্বে স্থানীয় ‘বাঙালিরা’ সেসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

পালিয়ে যাওয়া অর্ধ মিলিয়ন শরণার্থী নিয়ে বলতে গিয়ে সেনপ্রধান বলেন, ‘কিছু হিন্দু বাঙালি ও মুসলমান বাঙালি মংডু এবং সিতওয়েতে পালিয়ে গেছে। বাঙালিদের আসল জায়গা আসলে বাঙলা (বাংলাদেশ)। এ কারণে হয়তো একই ভাষা, জাতি ও সংস্কৃতির জায়গাতে তারা নিরাপদ বোধ করছে।’

এসবিআই/আইএম

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad