রোহিঙ্গা জিহাদিরাও বাংলাদেশ-ভারতের কমন শত্রু: এইচ টি ইমাম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

রোহিঙ্গা জিহাদিরাও বাংলাদেশ-ভারতের কমন শত্রু: এইচ টি ইমাম

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭

print
রোহিঙ্গা জিহাদিরাও বাংলাদেশ-ভারতের কমন শত্রু: এইচ টি ইমাম

মিয়ানমারে সক্রিয় রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাও বাংলাদেশ ও ভারতের কমন শক্র বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। কোলকাতায় সংবাদসংস্থা আইএএনএস’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার তিনি একথা বলেন। সংবাদসংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে ইকোনোমিক টাইমস জানায়, আরসা (Arakan Rohingya Salvation Army)’কে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা সহায়তা করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। রোহিঙ্গাদের এমন উগ্রবাদী দলগুলো মিয়ানমারের মতো বাংলাদেশ ও ভারতেরও শক্র বলে হাসান তৌফিক ইমাম জানান।

১৯৭১ সালে একজন সরকারি কর্মচারী থেকে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ওঠা ইমাম বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও সংবাদসংস্থাটি প্রতিবেদনে জানায়। ইমাম আইএএনএস IANS’কে জানান, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে পাকিস্তানের আইএসআই রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে মিয়ানমার সীমান্তে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির ষরযন্ত্র করছে।’

কিন্তু বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী বলে জানান এইচ টি ইমাম। শেখ হাসিনা সরকার দেশে জঙ্গিদের সব ধরনের নাশকতার চেষ্টা ব্যর্থ করছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া সীমান্তে সক্রিয় ভারতীয় উগ্রবাদী সংগঠনগুলোকেও নিষ্ক্রিয় করেছে।

সেইভাবে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরসা এবং অন্যান্য রোহিঙ্গা জিহাদি সংগঠনগুলোরও একই পরিণতি হবে বলে এইচ টি ইমাম দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, আরসা বাংলাদেশের জামাত-উল-মুজাহিদীন বা জেএমবি’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। যে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটি বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত, লস্কর-ই-তৈয়বা’র সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে।

নিজের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘১৯৬৯ সালে অখণ্ড পাকিস্তানের সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময়ই তিনি জানতেন দেশটির গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আবারও সেই পুরনো খেলায় মেতে উঠেছে। এই ষরযন্ত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার শান্তি বিনষ্টের পায়তারা করছে ইসলামাবাদ।’

ইমাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারকে বিপদে ফেলতে তারা এখন মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা দুর্গাপুজার সময়টাতেই রোহিঙ্গাদের দ্বারা একটি অস্থিতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, আমরা গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করছি এবং সতর্কতাও বহাল রয়েছে। কাজেই পুজার আগে বা পরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সতর্ক রয়েছে। এইচ টি ইমাম আরও বলেন, ‘আইএসআই পরিচালিত রোহিঙ্গা জিহাদিদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালাতে আমরা মিয়ানমারকেও প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি যে, সেই ডাকে মিয়ানমার সাড়া দেয়নি।’

ইমাম বলেন, ‘নিরাপত্তার দিক থেকে রোহিঙ্গারা শুধু মিয়ানমারের নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের জন্যও সমান সমস্যা। কিন্তু মানবিকতা তার চাইতেও উপরে, আর সে কারণেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।’

মিয়ানমারের জান্তা সরকার জঙ্গি নিধনের নামে রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান শুরুর পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালায়। এর জেরে আবারও রাখাইন রাজ্যে অভিযানের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর দমন-পীড়ন শুরু করে মিয়ানমারের ‘তামাদাও’ নামের বিশেষ সেনা বাহিনী।

নিষ্ঠুরতায় সেরা এই বাহিনী রোহিঙ্গাদের সবগুলো গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। মিয়ানমার বাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের কবল থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে গত ৪ সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

এইচ টি ইমাম বলেন, রোহিঙ্গারা জনবহুল বাংলাদেশের জন্য বোঝা হলেও শুধুমাত্র মানবিকতার কারণে শেখ হাসিনা সরকার তাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছেন। পশ্চিমা উন্নত দেশগুলো যখন লাখখানেক অভিবাসন প্রত্যাশীদের চাপ সামলাতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছিল, তখন ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।       

কেবিএ

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad