রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘকে নোবেলজয়ীদের চিঠি

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘকে নোবেলজয়ীদের চিঠি

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

print
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘকে নোবেলজয়ীদের চিঠি

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৩০ বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের মধ্যে নোবেলজয়ী ১৮ জনসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, সমাজসেবী ও অধিকারকর্মী রয়েছেন।

.

বুধবার ইউনূস সেন্টার থেকে পাঠানো এই খোলা চিঠিতে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় মানবীয় ট্রাজেডি ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ যে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে, তার অবসানে আপনাদের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

এতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণে শত শত রোহিঙ্গা জনগণ নিহত হচ্ছেন। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। বহু গ্রাম সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, বেসামরিক মানুষদের নির্বিচারে আটক করা হচ্ছে এবং শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে।’

‘আতঙ্কের বিষয়, মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে এ এলাকায় প্রায় একবারেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না যার ফলে দারিদ্র্যপীড়িত এই এলাকায় মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে’ যোগ করা হয় চিঠিতে।

বাংলাদেশের নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের সঙ্গে এই আহ্বানে যুক্ত শান্তিতে নোবেলজয়ীরা হলেন- আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, শিরিন এবাদি, মালালা ইউসূফজাই, মেইরিড মাগুইর, বেটি উইলিয়াম্স, বেটি উইলিয়াম্স, অসকার আরিয়াস সানচেজ, জোডি উইলিয়াম্স, লেইমাহ বোয়ি, তাওয়াক্কুল কারমান।

তারা বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য সব হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে নিরীহ বেসামরিক মানুষদের ওপর নির্বিচার সামরিক আক্রমণ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়, যার ফলে এই অসহায় মানুষগুলোকে নিজ দেশ ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে এবং রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত হতে না হয়।’

চিঠিতে ১৯৯৩ সাল চিকিৎসায় নোবেলজয়ী স্যার রিচার্ড জে রবার্টস, ২০০৯ সালে চিকিৎসায় নোবেলজয়ী এলিজাবেথ ব্ল্যাকবার্নও, পাকিস্তানের মানবাধিকার নেত্রী আসমা জাহাঙ্গীর, ভারতের কবি জাভেদ আখতার ও অভিনেত্রী শাবানা আজমীও যুক্ত রয়েছেন।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ হামিদ আলবার, ইতালির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমা বোনিনো, নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রো হারলেম ব্রান্ডটল্যান্ড, থাইল্যান্ডের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসিত পিরোমিয়া, আসিয়ানের সাবেক মহাসচিব সুরিন পিটসুয়ান।

বিশ্বের বিশিষ্ট ৩০ জন ব্যক্তি চিঠিতে আরো বলেন, ‘আপনাদের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতির প্রেক্ষিতে নিরীহ নাগরিকদের উপর অত্যাচার বন্ধ এবং রাখাইন এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা আবারও আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

 এই মাসে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের আগে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচিত। আলোচনার জন্য সুইডেন ও যুক্তরাজ্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। বুধবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এসবিআই/এমএসআই

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad