করোনার ছোবল এবার দক্ষিণ কোরিয়ায়
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

করোনার ছোবল এবার দক্ষিণ কোরিয়ায়

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

করোনার ছোবল এবার দক্ষিণ কোরিয়ায়

চীনের পর এবার দক্ষিণ কোরিয়ায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

দেশটিতে আরো ১৬১ জন নতুন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন সাতে পৌঁছেছে। এর আগে গত শনিবার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা একদিনে দ্বিগুণ হয়ে যায়।

সোমবার দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থাইনাম নামের একটি হাসপাতাল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর থেগুরের ধর্মীয় এক গোষ্ঠীর মধ্যে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

থেগু ও ছংগদুর কাছাকাছি হাসপাতালটিকে ‘স্পেশাল কেয়ার জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই হাসপাতালে বয়স্ক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের চীনের কোনো নাগরিকের সঙ্গে বা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় ভাইরাসটি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৭৬৩। দেশটিতে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এক সপ্তাহের কম সময়ে সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০০ জনের বেশি মানুষ। দক্ষিণাঞ্চলের শহর থেগুর একটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায় থেকে গত সপ্তাহে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই খ্রিষ্টান সম্প্রদায় শিনচেয়নজি চার্চ অনুসারী।

কোরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা কেন্দ্রের (কেসিডিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ১২৯ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

শিনচেয়নজি চার্চ অনুসারীদের মধ্যে প্রথম ভাইরাসটি ছড়ায় ৬১ বছর বয়সী এক নারী থেকে। ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর নিয়ে তিনি থেগুতে কমপক্ষে চারটি কর্মকাণ্ডে যোগ দেন। শহরটিতে লোকসংখ্যা রয়েছে ২৫ লাখ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই সম্প্রদায়ের অনুসারীদের বড় একটি অংশ ফাউন্ডার্স ব্রাদারের মৃত্যুতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শোকসমাবেশে অংশ নিয়েছিল।

শিনচেয়নজির সদস্যদের মধ্যে ৯ হাজার ৩০০ জনকে কোয়ারেন্টাইন (রোগ সংক্রমণের শঙ্কায় পৃথক রাখা) বা বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

দেশটিতে করোনাভাইরাসের উদ্বেগের কারণ হওয়ায় এক ভিডিওবার্তায় ক্ষমা চেয়েছেন সম্প্রদায়টির মুখপাত্র। তবে শুরু থেকেই তাঁরা স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছেন বলে জানান। তিনি রোগটি সংক্রমণের জন্য চার্চকে দোষারোপ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, রোগটি চীনে ছড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘দয়া করে মনে রাখুন, শিনচেয়নজি চার্চ এবং এর সদস্যরা কোভিড-১৯-এর সবচেয়ে বড় শিকার।’

বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে ইরানে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যার দিক দিয়ে চীনের পর এটাই সবচেয়ে বেশি। ইরানে মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৪৩।

এর বেশির ভাগই পবিত্র নগর কোমের বাসিন্দা। ইরাক, পাকিস্তান, আর্মেনিয়া এবং তুরস্ক ইরানের সঙ্গে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। আফগানিস্তান ইরানে আকাশ ও স্থলপথে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ওএস/এইচআর

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও