করোনাভাইরাসে ‘গুরুতর’ পরিস্থিতিতে দ.কোরিয়া
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

করোনাভাইরাসে ‘গুরুতর’ পরিস্থিতিতে দ.কোরিয়া

পরিবর্তন ডেস্ক ১:১৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

করোনাভাইরাসে ‘গুরুতর’ পরিস্থিতিতে দ.কোরিয়া

চীনের পর এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাস আতঙ্ক প্রকট আকার ধারণ করছে। শনিবার নতুন করে ২২৯ জন প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের একজন মন্ত্রী কিম গ্যাং-লিপ বলেছেন, পরিস্থিতি ‘গুরুতর পর্যায়ে মোড় নিয়েছে।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, চীনে যেমন উহান শহরকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসাবে দেখা হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও তেমনি দক্ষিণাঞ্চলীয় পাশাপাশি দুটো শহর- দেগু এবং তার পার্শ্ববর্তী চোংডোকে ভাইরাস ছড়ানোর সূত্র হিসাবে দেখা হচ্ছে।

সন্দেহের তীর গিয়ে পড়েছে ঐ অঞ্চলের শিনচিওঞ্জি নামে ক্ষুদ্র একটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দিকে। বলা হচ্ছে দেগু এবং চোংডোতে এই ধর্মীয় গোষ্ঠীর কয়েকশ সদস্য ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গের কথা জানানোর পরই তাদের অনেকের শরীরেই প্রথম করোনাভাইরাস পাওয়া যায়।

তারপর থেকে নতুন করে ভাইরাস আক্রান্তের যেসব রোগী মিলছে তাদের সিংহভাগই চোংডো শহরের দেনাম নামের একটি হাসপাতালে। এই একটি হাসপাতালেই এখন পর্যন্ত ১১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।

একইসাথে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্তদের অধিকাংশই শিনচিওঞ্জি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুসারী।

শনিবার পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে যে ৪৩৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ২৩১ জন অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি রোগী শিনচিওঞ্জি সম্প্রদায়ের সদস্য।

গতকালই (শুক্রবার) সরকার শিনচিওঞ্জি ধর্মীয় গোষ্ঠীর নয় হাজারেরও বেশি সদস্যকে পারবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করে বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে কীভাবে, কার সূত্রে তাদের এই সম্প্রদায়ের এতজন সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।

তবে জানা গেছে, চোংডোতে পনের দিন আগে শিনচিওঞ্জি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতার ভাইয়ের মৃত্যুর শেষকৃত্যে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

তারপরই ঐ সম্প্রদায়ের পাঁচশরও বেশি অনুসারী ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার নানা উপসর্গের কথা জানায়।

দেগু এবং চোংডো এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা জারী করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই দুই শহরের লোকজনকে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরুনোর পরামর্শ দিয়েছে।

দেগু দক্ষিণ কোরিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর। ২৫ লাখ জনসংখ্যার এই শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুদিন ধরে রাস্তায় মানুষজন বলতে গেলে চোখেই পড়ছে না।

দেগুর একজন বাসিন্দা বিবিসির কাছে বলেন তার ভয় হচ্ছে যে দেগুর পরিণতি যেন চীনের উহান শহরের মতো না হয়।

ওদিকে, শুক্রবার আরও একজন সৈন্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সৈন্যদের সেনা ছাউনির বাইরে আসা আপাতত নিষিদ্ধ করেছে।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও, মৃতের সংখ্যার বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রবল। সূত্র: বিবিসি।

ওএস/এমএফ

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও