ইরানের একমাত্র নারী অলিম্পিক পদকজয়ীর দেশত্যাগ

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

ইরানের একমাত্র নারী অলিম্পিক পদকজয়ীর দেশত্যাগ

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

ইরানের একমাত্র নারী অলিম্পিক পদকজয়ীর দেশত্যাগ

অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী ইরানের একমাত্র নারী কিমিয়া আলিজাদেহ

অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ইরানের একমাত্র নারী কিমিয়া আলীজাদেহ দেশ ত্যাগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভণ্ডামি, মিথ্যাচার, অবিচার ও চাটুকারিতার অংশ হতে চান না বলে ইরান ছেড়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, একুশ বছর বয়সী আলীজাদেহ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি ইরান ত্যাগ করেছেন কারণ তিনি “ভণ্ডামি, মিথ্যা, অবিচার এবং চাটুকারিতার অংশ হতে চান না”।

তিনি নিজেকে “ইরানের লাখ লাখ নিপীড়িত নারীদের একজন” বলে বর্ণনা করেন।

যদিও খবরে বলা হয়েছে তিনি নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন, কিন্তু আলীজাদেহ তার বর্তমান অবস্থান প্রকাশ করেননি।

২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকসে তায়কোয়ান্দোতে ইরানের হয়ে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস গড়েন আলীজাদেহ। কিন্তু ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি লিখছেন ইরান তার সেই সাফল্যকে প্রোপাগান্ডা চালানোর জন্য ব্যবহার করেছে।

এমন সময় তিনি এই পক্ষত্যাগের ঘোষণা দিলেন যখন ভুল করে যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার ইস্যুতে ইরানে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তিনি লিখেন, “আমি সেইসব লাখ লাখ নিপীড়িত নারীর একজন, ইরান যাদের নিয়ে বছরের পর বছর ধরে খেলেছে”।

“তারা আমাকে যা লিখতে বলেছে তাই লিখেছি। তাদের নির্দেশমতোই বলেছি। তাদের নির্দেশিত প্রত্যেকটি লাইন আমাকে বলতে হয়েছে। তাদের কাছে আমাদের কোন গুরুত্ব নেই। আমরা স্রেফ উপকরণ”।

তিনি আরও লিখেন, যদিও সরকার তার সাফল্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে, কিন্তু কর্মকর্তারা তাকে নানাভাবে কথার প্যাচে ফেলে অপদস্থ করতো। যেমন তারা বলতো, ‘নারীদের পা ছড়ানো উচিত না’।

ইউরোপে নিমন্ত্রণ পাওয়া কিংবা কোন লোভনীয় প্রস্তাব পাওয়ার অস্বীকার করেছেন আলীজাদেহ। তিনি কোন দেশে গেছেন সেটাও নিশ্চিত করেননি।

গত সপ্তাহে যখন আলীজাদেহর পালিয়ে যাবার খবর প্রথম চাউর হয় তখন ইরানীরা চমকে ওঠে। ইরানী রাজনীতিবিদ আবদোলকরিম হোসেইনজাদেহ ইরানের ‘মানবসম্পদ পালিয়ে যাবার’ জন্য দেশটির ‘অযোগ্য কর্মকর্তাদের’ দায়ী করেন।

বৃহস্পতিবার আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা খবর দেয়, “ইরানের তায়কোয়ান্দোতে আঘাত। কিমিয়া আলীজাদেহ নেদারল্যান্ডসে অভিবাসী হয়েছেন”।

সংস্থাটি আরো খবর দিচ্ছে, আলীজাদেহ ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকসে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে সেটি ইরানের হয়ে নয়।

ইরান ত্যাগের ইচ্ছের ঘোষণা দেয়া এই নারী ক্রীড়াবিদ অবশ্য তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাননি। তবে বলেছেন, তিনি যেখানেই থাকেন না কেন সবসময় ‘ইরানের সন্তান’ই থাকবেন।

এমএফ/

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও