না খেয়ে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের: জাতিসংঘ

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

না খেয়ে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের: জাতিসংঘ

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৫০ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৬, ২০১৮

print
না খেয়ে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের: জাতিসংঘ

মিয়ানমার রাখাইন অঞ্চলের রোহিঙ্গা মুসলিমদের জাতিগত নিধন বন্ধ করেনি। তাদেরকে ‘ভীতি প্রদর্শন ও না খেয়ে থাকতে বাধ্য’ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অ্যান্ড্রু গিলমোর মঙ্গলবার একথা বলেছেন।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নিধন শুরু করার ছয় মাস পর এখন তাদেরকে ‘ভীতি প্রদর্শন ও না খেয়ে থাকতে বাধ্য’ করছে।

গত বছরের আগস্ট মাসের পর সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের হাতে হত্যা, ধর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে, তারা রোহিঙ্গা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং রাখাইন রাজ্যের সাধারণ মানুষকে আক্রমণের কথা তারা অস্বীকার করে।

কিন্তু, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অ্যান্ড্রু গিলমোর বলেছেন, ‘মিয়ানমারে এখনও জাতিগত নিধন চলছে। কক্সবাজারে আমি যে অবস্থা দেখেছি ও শুনেছি, তাতে এ থেকে ভিন্ন কিছু ভাবা সম্ভব নয়।’

কক্সবাজারে শরণার্থীদের ক্যাম্প ঘুরে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন গিলমোর।

পরে এএফপিকে তিনি বলেন, ‘সেখানে সহিংসতার ধরন বদলানো হয়েছে। গত বছরের উম্মত্ত রক্তপাত ও ঢালাও ধর্ষণের পরিবর্তে এখন ভীতি প্রদর্শন ও না খেয়ে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ গত কয়েক মাস ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে আলোচনা করছে। কিন্তু গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সেনা মোতায়েন করলে উত্তেজনা দেখা দেয়।

জাতিসংঘের কর্মকর্তা বলেছেন, নিকট ভবিষ্যতে রাখাইন অঞ্চলে ফিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে টিকে থাকতে পারবে একথা ‘চিন্তাও করা যাচ্ছে না’।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সরকার বিশ্বকে জনাচ্ছে, তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক। কিন্তু একই সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী তাদেরকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করছে।’

এমআর/এমএসআই

 
.




আলোচিত সংবাদ